এক ঝাঁক তরুণদের নিয়ে দারুণ আশাবাদী ব্রাজিল কোচ
গত দুটি বিশ্বকাপে নেইমারকে কেন্দ্র করেই এগিয়েছে ব্রাজিলের সব পরিকল্পনা। হেক্সা জেতার মিশনে দুবারই হতে হয়েছে হতাশ। আসছে বিশ্বকাপে কেবল নেইমারের উপর আর ভর করবে না ব্রাজিল। কোচ তিতে মনে করেন উঠে আসা দারুণ প্রতিভাবান এক ঝাঁক তরুণ তাদের দিচ্ছে সাহস, বাড়ছে আশা।
ব্রাজিলের নতুনদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ভিনিসিয়স জুনিয়র ও রদ্রিগো। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ে দুজনেরই আছে অবদান। বার্সেলোনায় যোগ দিয়ে আলো ছড়াচ্ছেন রাফিনহা।
টটেনহ্যাম হটস্পারের রির্চালিশন, নিউ ক্যাসল ইউনাইটেডের ব্রুনো গুইমারেস, আয়াক্স আমস্টারডমের আন্তোনিও, আতল্যাটিকো মাদ্রিদের মাথেউস কুনইয়া এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
এদের সবার বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়া কঠিন। স্কোয়াড বানাতে কিছুটা মধুর সমস্যাও হবে ব্রাজিলের। কাতার বিশ্বকাপে দলগুলো নিতে পারবে ২৬ জন খেলোয়াড়। বদলি নামানো যাবে পাঁচজন।
রয়টার্সের সঙ্গে সাক্ষাতকারে তিতে জানান সম্ভাবনাময় এই তরুণদের উপস্থিতি তাদের দিচ্ছে আলোর দিশা, 'এই ঝাঁক তরুণের উঠে আসা মাঠে ও মাঠের বাইরে নেইমারের জন্য ভালো হবে।'
'একদিন নেইমার আমাকে বলল, "কোচ এই ছেলেগুলো যারা আসছে, এদের একসঙ্গে মাঠে নামানোটা সত্যি মধুর সমস্যা হবে।'
'হাতের কাছে প্রতিভাবান কুশলী খেলোয়াড় থাকলে দলের চাপ ভাগ করে নেওয়া যায় এবং প্রতিপক্ষের দিক মন দেয়া যায়।'
২৫ বছরের কম বয়েসী এসব ফুটবলার ইতোমধ্যে ব্রাজিলের জুনিয়র দলের হয়ে পেয়ে এসেছেন বড় সাফল্য। এবার সিনিয়র দলের হয়ে ভূমিকা রাখার পালা তাদের। তিতে মনে করেন প্রত্যেকেই বড় ক্লাবে খেলায় ব্রাজিলের জার্সির চাপ নিতে পারবেন তারা, 'এই ছেলেগুলো ব্রাজিল অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে টোকিও অলিম্পিকস জিতেছে। তারা খুবই লড়াকু মানসিকতার, তাদের চিন্তার গতিপথও ঠিক দিকে।'
'বড় ক্লাবগুলোতে তাদের উপস্থিতি বেশ সরব। এই কারণেই ব্রাজিলের জার্সির ওজন তারা বুঝে। চাপ আছে, কিন্তু সেই চাপ জেতার জন্য তারা প্রস্তুত।'
তরুণরা বড় নিয়ামক হলেও মূল ভূমিকায় নেইমারকেই দেখছেন তিতে। ব্রাজিলের নাম্বার টেনই সমন্বয় করবেন দলের আক্রমণ, 'নেইমার এখন আরও সৃষ্টিশীল। কড়া পাহারায় থেকেও আক্রমণ বানানো ও গোল করায় সে উন্নতি করেছে। তার ভূমিকা হবে তির-ধনুকের মতো। আক্রমণ বানাবে, ফিনিশও করবে।'
'ফুটবলে এখন অনেক গতি। অনেক প্রতিপক্ষে পাঁচ ডিফেন্ডার নিয়ে খেলবে। নেইমার যদি অন্য খেলোয়াড়দের জায়গা করে দেয় তাহলে সেটা গুরুত্বপূর্ণ হবে। আমরা ভালো অবস্থানে আছি।'
২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় ব্রাজিল। সেই ম্যাচে দারুণ ফুটবল খেললেও হতাশ হতে হয় রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের। এবারও কাজটা সহজ না। এইজন্য মনের জোরের উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে বলে মনে করেন ব্রাজিল কোচ, 'পারফম্যান্স ভাল করা মৌলিক বিষয়। বিশ্বকাপের আসলে কঠিন দিক হচ্ছে মানসিক চাপ। এটা অবিশ্বাস্য রকমের।'
