'এমবাপেকে পিএসজির চেয়ে বেশি টাকা দিতে চেয়েছিল রিয়াল'
পিএসজির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করে কিলিয়ান এমবাপে পড়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকদের তোপের মুখে। পাশাপাশি তাকে কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে যে কেবল টাকার কারণেই তিনি স্বদেশি ফরাসি ক্লাবটিতে থেকে গেছেন। তবে পিএসজি সভাপতি নাসের আল খেলাইফি সেই অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। উল্টো তিনি দাবি করেছেন, এমবাপেকে স্প্যানিশ লা লিগার পরাশক্তি রিয়াল আরও বেশি টাকার প্রস্তাব দিয়েছিল।
২৩ বছর বয়সী স্ট্রাইকার এমবাপেকে পেতে দারুণ আত্মবিশ্বাসী ছিল রিয়াল। বিনা ট্রান্সফার ফিতে তার যোগ দেওয়ার কথা ছিল সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর দলটিতে। কিন্তু বিস্ময় জাগিয়ে অন্তিম মুহূর্তে ইউ-টার্ন নিয়ে ফেলেন ২০১৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী তারকা। আরও তিন বছরের জন্য অর্থাৎ ২০২৫ সালের গ্রীষ্ম পর্যন্ত পিএসজিতে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এতে রিয়ালপ্রেমীদের চোখের বালিতে পরিণত হয়েছেন সময়ের অন্যতম সেরা ফুটবলার।
পিএসজি খোলাসা না করলেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল চুক্তির মাধ্যমে এমবাপেকে রিয়ালে যেতে দেয়নি পিএসজি। তার বেতন ধরা হয়েছে আকাশচুম্বী, বার্ষিক ১০০ মিলিয়ন ইউরো। চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য পাওয়া বোনাসের অঙ্কটাও রীতিমতো অবিশ্বাস্য! ৩০০ মিলিয়ন ইউরো পেয়েছেন এমবাপে! চড়া বেতন-বোনাসের পাশাপাশি আরও অত্যাশ্চর্য কিছু সুবিধা পাচ্ছেন তিনি।
মঙ্গলবার স্প্যানিশ গণমাধ্যম মার্কাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অবশ্য খেলাইফি বলেছেন, এমবাপেকে পেতে পিএসজির চেয়েও বেশি খরচ করতে তৈরি ছিল রিয়াল, 'আমি রিয়াল মাদ্রিদকে ভীষণ সম্মান করি। তারা অসাধারণ একটি ক্লাব। তবে কিলিয়ান কেবল টাকার জন্য চুক্তি নবায়ন করেনি। এটাই প্রথম কথা। মাদ্রিদ তাকে যে প্রস্তাব দিয়েছিল, সেখানে টাকার অঙ্ক ছিল আরও বড়।'
খেলাইফির মতে, টাকা নয়, বরং ফরাসি লিগ ওয়ানের শিরোপাধারী পিএসজির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সন্তুষ্ট হয়ে নতুন চুক্তি করেছেন এমবাপে। তাই তার নামে যে কুৎসা রটানো হচ্ছে, তা ন্যায়বিরুদ্ধ, 'তার জন্য মাদ্রিদের পাশাপাশি ইংল্যান্ড থেকেও প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু সে পিএসজিকেই বেছে নেয়। একদম শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমরা তার কিংবা তার পরিবারের সঙ্গে টাকার অঙ্ক নিয়ে কথা বলিনি। কিলিয়ান আমাদের প্রকল্পের ব্যাপারে আগ্রহী। সে প্যারিসিয়ান, সে ফরাসি এবং সে এখানে থেকে তার ক্লাব, তার শহর ও তার দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চায়। তাকে নিয়ে যেসব বলা হচ্ছে, তা মোটেও ন্যায্য না। তার কাছে টাকা সবচেয়ে বড় বিষয় না। সে জিততে চায় এবং ক্রীড়া বিষয়ক একটি দারুণ প্রকল্প দেখতে চায়।'
ফরাসি গণমাধ্যম লা প্যারিসিয়ানে প্রকাশিত আরেকটি সাক্ষাৎকারেও একই সুর শোনা গেছে খেলাইফির কণ্ঠে, 'গত পাঁচ বছর ধরে আমি এমবাপে ও তার পরিবারের সঙ্গে বিশেষ একটি সম্পর্ক গড়ে তুলেছি। তার পরিবার অসাধারণ। যখন সে মোনাকোতে ছিল, তখন তার ও তার পরিবারের সঙ্গে প্রথম ছয়টি সাক্ষাতের কথা আমি কখনও ভুলব না। তারা কখনও আমার সঙ্গে টাকা নিয়ে আলাপ করেনি। কখনওই না।'