বসুন্ধরা কিংসের নতুন ইতিহাস

By ক্রীড়া প্রতিবেদক

জয় পেলেই নিশ্চিত হবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা, এমন সমীকরণ নিয়ে খেলতে নেমেছিল বসুন্ধরা কিংস। সেই লক্ষ্য পূরণ করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার উল্লাসে মাতোয়ারা হলো অস্কার ব্রুজোনের শিষ্যরা। দুই ম্যাচ হাতে রেখে টানা তৃতীয়বারের মতো পেশাদার লিগে সেরা হয়ে তারা গড়ল নতুন ইতিহাস। দলটি ছুঁয়ে ফেলল ঐতিহ্যবাহী ঢাকা আবাহনী লিমিটেডের টানা তিন শিরোপার কীর্তিকে।

সোমবার মুন্সিগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে স্বাগতিক সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবকে ২-০ গোলে হারিয়েছে বসুন্ধরা। প্রথমার্ধে মতিন মিয়ার লক্ষ্যভেদের পর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ান বদলি নামা বিপলু আহমেদ। তবে ম্যাচের লম্বা সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় সফরকারীদের। ম্যাচের ৩৭তম মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় ইয়াসিন আরাফাতকে।

২০০৭ সাল থেকে চালু হওয়া বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে টানা ও সবমিলিয়ে তৃতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো তারকাখচিত বসুন্ধরা। এর আগে ২০২০-২১ ও ২০১৮-১৯ মৌসুমে শিরোপা জিতেছিল তারা। মাঝে ২০১৯-২০ মৌসুম বাতিল হয়েছিল করোনাভাইরাসের কারণে। বসুন্ধরার আগে প্রথমবারের মতো পেশাদার লিগে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নজির স্থাপন করেছিল ঢাকা আবাহনী। তারা সেরা হয়েছিল প্রতিযোগিতার প্রথম তিন আসরেই (২০০৭, ২০০৮-০৯ ও ২০০৯-১০)।

২০ ম্যাচে ১৬ জয়, তিন ড্র ও এক হারে শীর্ষে থাকা বসুন্ধরার পয়েন্ট ৫১। শিরোপার লড়াইয়ে তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দুইয়ে থাকা ঢাকা আবাহনীর পয়েন্ট ১৯ ম্যাচে ৪১। অর্থাৎ বসুন্ধরা নিজেদের পরের দুই ম্যাচে হারলে এবং আবাহনী নিজেদের পরের তিন ম্যাচে জিতলেও পয়েন্ট তালিকায় তাদের অবস্থানের নড়চড় হবে না। সাইফ স্পোর্টিং ২০ ম্যাচে ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে তিনে। শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ১৯ ম্যাচে সমান পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে অবস্থান করছে চার নম্বরে।

বিরতির আগে আক্রমণে মনোযোগী থাকা বসুন্ধরা বিরতির পর বল পায়ে রাখার ওপর জোর দেয়। ২৮তম মিনিটে তারা এগিয়ে যায় মতিনের গোলে। মিগেল ফিগেইরার পাস ডি-বক্সে পেয়ে যান তিনি। এরপর জায়গা বানিয়ে নিয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে জাল খুঁজে নেন তিনি। ৮১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বিপলু। ডি-বক্সের ভেতর থেকে কোণাকুণি শটে নিশানা ভেদ করেন তিনি।