বার্সেলোনাকে শীর্ষে ফেরাতে মরিয়া লেভানদোভস্কি

By স্পোর্টস ডেস্ক

গত মৌসুমেই নতুন চ্যালেঞ্জ নেওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন রবার্ট লেভানদোভস্কি। কিন্তু হয়ে ওঠেনি। এবার নিতে পেরেছেন। তাও আবার এমন একটি ক্লাবে, যারা গত কয়েক মৌসুম ধরে ধুঁকছে। আর্থিক টানাপোড়নে তো দেউলিয়া হওয়ার দশা বার্সেলোনার। তবে নতুন ক্লাবে এসে দলটিকে ফের শীর্ষে তোলার অঙ্গীকারই করলেন লেভানদোভস্কি।

অবশ্য চলতি মৌসুমে দারুণ কিছু ট্রান্সফারে প্রত্যাশাটা বেড়েছে বার্সেলোনার। নিজেও একই প্রত্যাশা করছেন লেভা, 'গত মৌসুমে বার্সেলোনার অনেক সমস্যা ছিল। তবে এবার তারা দারুণ কিছু নতুন ফুটবলারকে দলে এনেছে। আমার মনে হয়, শীর্ষে ফেরার পথে সঠিক পথেই আছে ক্লাবটি। বার্সায় আমার লক্ষ্যও পরিষ্কার, অনেক ম্যাচ জেতা ও আরও ওপরে ওঠা।'

তবে আগামী মাসেই ৩৪ পূর্ণ হবে লেভার। কাজটা মোটেও সহজ নয় তার জন্য। তবে চ্যালেঞ্জটা নিচ্ছেন এ তারকা, 'জানি, শিগগিরই আমার বয়স হবে ৩৪। তবে এখনও শারীরিক ও মানসিকভাবে নিজেকে যথেষ্ট শক্তিশালী মনে করি। বার্সেলোনাও ব্যাপারটি একইভাবে দেখেছে। আমি জানি না, ওই সময়ের (২০২৪) পরে কেমন কী হবে। এমন না যে ২০২৬ সালেই থেমে যেতে হবে… আরও অনেক বছর আমি শীর্ষ পর্যায়ে খেলতে চাই।'

অবশ্য বায়ার্ন ছাড়তে বেশ ঝামেলাই পোহাতে হয়েছে লেভাকে। যদিও বার্সেলোনায় যোগদানের বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। চলছে শেষ সময়ের আনুষ্ঠানিকতা। তবে কাতালান ক্লাবের হয়ে মাঠে নামার জন্য এখনই মুখিয়ে আছেন এ পোলিশ তারকা। বার্সেলোনাকে ফের শীর্ষে দেখতেও মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

তবে সিদ্ধান্ত নেওয়াটা বেশ কঠিন ছিল তারজন্য, 'বুন্ডেসলিগার বাইরে একটি লিগে খেলতে চেয়েছিলাম আমি। অনেক আগে থেকেই এই সিদ্ধান্ত ছিল আমার। যদিও স্বীকার করতেই হবে, জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল এটি। আমি চেয়েছি অন্য কোনো জায়গায় থাকতে, পরিবারের সঙ্গে নতুন জগত দেখতে। আমার মেয়ে ক্লারা আগামী বছর থেকে স্কুল শুরু করবে, সিদ্ধান্ত তাই এখনই নিতে হতো। এখন না হলে হয়তো আর কখনোই সম্ভব হতো না।'

একই সঙ্গে বায়ার্নে শেষ সময়টাও বেশ কঠিন ছিল লেভার, 'গত কয়েক সপ্তাহ কঠিন ছিল। আমার জন্য সঠিক শব্দ খুঁজে পাওয়া সহজ নয়, এই মুহূর্তে মাথায় অনেক কিছু ঘোরাফেরা করছে। তবে চেষ্টা করেছি শান্ত থাকতে, পরিবারের সঙ্গে ছুটি উপভোগ করতে। অবশ্যই আমার বয়স ও অভিজ্ঞতা সহায়তা করেছে। বয়স কম হলে হয়তো অনেক চাপ অনুভব করতাম ও হতাশ হতাম। তবে এখন বুঝেছি যে কী হতে যাচ্ছে, কে কী বলছে বা লিখছে কিংবা পরিস্থিতি কীভাবে তুলে ধরছে।'

'দুই পক্ষই এমন কিছু কাজ করেছে, যা ছিল অপ্রয়োজনীয়। তবে এই দলবদল সম্ভব করে তুলতেই হয়তো কিছু ব্যাপার প্রয়োজন ছিল। আমার মনে হয়, দিন শেষে দুই পক্ষই খুশি। বায়ার্ন অনেক অর্থ পেয়েছে এবং আমি বার্সেলোনায় যেতে পারছি। দীর্ঘ ও কঠিন এক পথ ছিল এই প্রক্রিয়াটা। তবে আমার মনে হয়, দিনশেষে আমরা এখন পরস্পরের চোখে তাকিয়ে কথা বলতে পারি,' যোগ করেন লেভানদোভস্কি।