মেয়েদের ইউরোর ফাইনালে রেকর্ড ৮৭,১৯২ দর্শকের উপস্থিতি

By স্পোর্টস ডেস্ক

ইতিহাস গড়ে জার্মানিকে হারিয়ে মেয়েদের ২০২২ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতেছে ইংল্যান্ড। টানটান উত্তেজনায় ভরপুর ম্যাচটি দেখতে স্টেডিয়ামে জড়ো হন ৮৭ হাজার ১৯২ জন দর্শক। ছেলে ও মেয়েদের ইউরো মিলিয়ে যা কোনো ম্যাচে সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড।

রোববার অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ফাইনালে লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ২-১ গোলে জিতেছে ইংল্যান্ডের মেয়েরা। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর ম্যাচের ৬২তম মিনিটে এলা টুনের লক্ষ্যভেদে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। জার্মানি ৭৯তম মিনিটে সমতায় ফেরে লিনা ম্যাগালের গোলে। ফলে লড়াই গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এরপর ম্যাচের ১১০তম মিনিটে বল জালে পাঠিয়ে ইংলিশদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দে ভাসান ক্লোয়ি কেলি।

ছেলেদের ইউরোতে কোনো ম্যাচে সবচেয়ে বেশি দর্শক দেখা গিয়েছিল ১৯৬৪ সালের আসরে। মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে স্বাগতিক স্পেন ও সোভিয়েত ইউনিয়নের ফাইনাল দেখতে উপস্থিত হয়েছিলেন ৭৯ হাজার ১১৫ দর্শক। সেখানে ২-১ গোলে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্প্যানিশরা। ইংল্যান্ড ও জার্মানির জমজমাট ফাইনাল ছাড়িয়ে গেছে ওই কীর্তি। আর মেয়েদের ইউরোতে স্টেডিয়ামে দর্শক উপস্থিতির আগের রেকর্ড হয়েছিল গত ৬ জুলাই। সদ্যসমাপ্ত আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রিয়ার দ্বৈরথ উপভোগ করেছিলেন ৬৮ হাজার ৮৭১ জন।

মেয়েদের ইউরোতে ইংল্যান্ডের এটি প্রথম শিরোপা। তাদের সঙ্গে পেরে ওঠেনি এই প্রতিযোগিতায় আগের আটবার ফাইনালে উঠে প্রতিবারই চ্যাম্পিয়ন হওয়া জার্মানি। ক্লোয়ির জয়সূচক গোলে দীর্ঘ ৫৬ বছরের খরাও কেটেছে ইংল্যান্ডের। ১৯৬৬ সালে ছেলেদের বিশ্বকাপ জেতার পর প্রথমবারের মতো কোনো আন্তর্জাতিক ফুটবল শিরোপার স্বাদ নিল দেশটি। গত বছরই অপেক্ষার পালা শেষ হতে পারত তাদের। কিন্তু ছেলেদের ইউরোর ফাইনালে এই ওয়েম্বলিতে ইতালির কাছে টাইব্রেকারে হেরে যায় তারা।

এবারের আসরের শুরু থেকেই ফেভারিট ভাবা হচ্ছিল আয়োজক ইংল্যান্ডকে। পুরো প্রতিযোগিতায় সেই প্রত্যাশার প্রতিদান দেয় তারা। অস্ট্রিয়া, নরওয়ে ও উত্তর আয়ারল্যান্ডকে টপকে গ্রুপসেরা হয়ে লায়নেসরা পা রাখে নকআউট পর্বে। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনকে বিদায় করার পর সেমিফাইনালে তারা সুইডেনকে বিধ্বস্ত করে ৪-০ গোলে। এরপর জার্মানদের হারিয়ে ইউরোপ সেরার মুকুট মাথায় পরল ইংল্যান্ডের মেয়েরা।