কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, ধরলা পাড়েও নেই উন্নতি
বৃষ্টি ও উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের কারণে গত ১২ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি আরও ১৭ সেন্টিমিটার বেড়ে আজ শনিবার সকাল ৯টা থেকে কুড়িগ্রামের চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার (বিপৎসীমা ২৩ মিটার ৭০ সেন্টিমিটার) ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ধরলার পানি ১৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ধরলা সেতু পয়েন্টে বিপৎসীমার (বিপৎসীমা ২৬ মিটার ৫০ সেন্টিমিটার) ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে অবনতি হচ্ছে কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা পাড়ের বন্যা পরিস্থিতি। বন্যার পানিতে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।
তবে, লালমনিরহাটে ধরলা ও তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় উন্নতি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতির। কিন্তু বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ভাঙন।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, কুড়িগ্রামের নয়টি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও দুধকুমার নদীর ৪৫০টি চর-দ্বীপচর ও নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ঘরের ভেতর বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় অনেক পানিবন্দি মানুষ ঘর-বাড়ি ছেড়ে আসবাবপত্র ও গরু-ছাগল নিয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ, সরকারি রাস্তা ও উঁচু স্থানে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, 'ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। আগামী দুই-তিন দিনে ব্রহ্মপুত্র পাড়ে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা আছে। তবে, ধরলার পানি কমে যাবে এবং ধরলা পাড়ে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। ব্রহ্মপুত্র পাড়ের দুর্গত চরাঞ্চলের লোকজনকে নিরাপদে আশ্রয় নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।'
কুড়িগ্রাম ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকার জানান, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের পানিবন্দি পরিবারগুলোর তালিকা প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। তালিকা প্রস্তুত হলে পানিবন্দি পরিবারের কাছে সরকারি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার চর যাত্রাপুর এলাকার কৃষক আজগর আলী শেখ (৬০) দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, বাড়িতে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় তিনি পরিবার-পরিজনসহ আশ্রয় নিয়েছেন সরকারি রাস্তার ওপর। সঙ্গে গরু-ছাগল ও কিছু আসবাবপত্র নিয়ে এসেছেন। বন্যার পানি নেমে গেলে পুনরায় বাড়িতে ফিরবেন।
তিনি আরও জানান, বন্যার সময় এভাবে দিনাতিপাত করতে হবে এটা নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বন্যার সঙ্গে মোকাবিলা করতে তাদের প্রস্তুতিও থাকে।
চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গয়ছুল মণ্ডল জানান, তার ইউনিয়নটি ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে। ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় তার ইউনিয়নের অধিকাংশ বাড়িতে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নিয়ে নিরাপদে আনছেন।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হলেও তিস্তা ও ধরলা পাড়ের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন এসব এলাকা পরিদর্শন করছেন। খুব বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।'