রাজারহাটে তিস্তায় বিলীন আরও ২৩০ বসতভিটা
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের আরও ২৩০ বসতভিটা তিস্তা নদীর গর্ভে চলে গেছে।
আজ শুক্রবার সকালে ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ কর্মকার দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, 'গত বুধবার বিকেল থেকে আজ সকালের মধ্যে গতিয়াশ্যাম, নাকেন্দা ও কিতাব খাঁ গ্রামের এসব বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এর আগে গত এক সপ্তাহে এসব গ্রামের ছয় শতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়।'
তিনি জানান, এ ছাড়াও এসব গ্রামের দুই হাজার বিঘা বেশি আবাদি জমি ও শতাধিক ফলের বাগান নদীতে বিলীন হয়েছে। এসব গ্রামে তিস্তার ভাঙন অব্যাহত আছে। ভাঙন তীব্র হওয়ায় সেখানকার মানুষ ঘরবাড়ি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।
রবীন্দ্রনাথ কর্মকার বলেন, 'এ সব গ্রামে তিস্তা নদীর ভাঙন এতটাই তীব্র যে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলেও তা ঠেকানো যাচ্ছে না। বসতভিটা, আবাদি জমি ও ফলের বাগান হারিয়ে নিঃস্ব-ভূমিহীন হয়ে মানুষ সরকারি রাস্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ ও খাস জমিসহ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন।'
গতিয়াশ্যাম গ্রামের ভাঙনকবলিত শহিদ মন্ডল ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বৃহস্পতিবার বিকেলে চোখের সামনেই বসতভিটা ও তিন বিঘা আবাদি জমি তিস্তায় বিলীন হয়েছে। স্থানীয়দের সহায়তায় চারটি ঘর সরিয়ে রাস্তার ওপর রেখেছি।'
আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে গ্রামটি তিস্তায় বিলীন হতে পারে বলে আশংকা করছেন তিনি।
একই গ্রামের ভাঙনকবলিত মঞ্জু মিয়া ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বৃহস্পতিবার ঘর সরিয়ে নিতে হয়েছে। বিকেলে বসতভিটা ও ফলের বাগান তিস্তায় বিলীন হয়েছে। গত এক সপ্তাহে দশ বিঘা আবাদি জমি তিস্তায় বিলীন হয়েছে।'
গ্রামে তিস্তার ভাঙন তীব্র হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
একই গ্রামের ভাঙনকবলিত আব্দুর রশিদ ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গত এক সপ্তাহ ধরে এই গ্রামে তিস্তায় ভাঙন চলছে। তবে বুধবার বিকেল থেকে ভাঙন তীব্র হয়েছে। বসতভিটা, ফলের বাগান ও আবাদি জমি হারিয়ে পরিবার নিয়ে সরকারি রাস্তার ওপর আশ্রয় নিয়েছি।'
কুড়িগ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ভাঙনকবলিত গ্রামগুলোয় বালুবর্তী জিও ব্যাগ ফেলানো হয়েছে। কিন্তু, ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। তিস্তার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন তীব্র হয়েছে। বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি, ফলের বাগানসহ নানা স্থাপনা।'