লালমনিরহাটে তিস্তার পানি আজও বিপৎসীমার উপরে
উজানে ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার চার সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গতকাল সোমবার তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল। গত ১২ ঘণ্টায় পানি কমেছে ছয় সেন্টিমিটার।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশল মিজানুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'উজান থেকে পাহাড়ি ঢল আসা থেকে গেলে আজকের মধ্যে তিস্তার পানি বিপৎসীমার নিচে নেমে যাবে।'
'উজান থেকে পানি আসলে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে আর উজানের পানি না আসলে পানি থাকে বিপৎসীমার নিচে থাকে,' যোগ করেন তিনি।
তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় চর গড্ডিমারী, চর সিন্দুর্না, চর ডাউয়াবাড়ী, চর শোলমারী, চর নরসিংহ, চর মিলন বাজার, চর কালমাটি, গোবর্ধান, চর নোহালি, চর পারুলিয়াসহ তিস্তার চরাঞ্চলে পাঁচ হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
বন্যা উপদ্রুত চর ও নদী তীরবর্তী এলাকার রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে থাকায় চলাচল কষ্টে পড়েছেন পানিবন্দি মানুষ। এসব এলাকার আমন ধান ও সবজির ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে আছে।
বাড়িতে পানি ওঠায় রান্নার অভাবে বন্যা উপদ্রুত এলাকার লোকজন শুকনো খাবার খাচ্ছেন। তারা বিশুদ্ধ পানীয় জলের সঙ্কটে রয়েছেন।
আদিতমারী উপজেলার চর গোবর্ধান এলাকার কৃষক মপিয়ার রহমান (৬৫) ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বাড়িতে তিস্তার পানি ঢুকলেও এখনো বাড়িতে থাকতে পারছি। কিন্তু, পানি আরও বাড়লে বাড়ি ছেড়ে উঁচুস্থানে আশ্রয় নিতে হবে।'
রান্না করতে না পারায় গতকাল থেকে তারা শুকনো খাবার খেয়ে আছেন। গরু-ছাগল নিয়ে তারা বিপাকে আছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
হাতীবান্ধা উপজেলার চর ডাউয়াবাড়ী এলাকার কৃষক সুলতান আহমেদ (৫৬) ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আজকের মধ্যে পানি নেমে গেলে আমন ধানের জন্য মঙ্গল হবে। তবে পানির নিচে তলিয়ে থাকা সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।'