লালমনিরহাটে পানিবন্দি তিস্তাপাড়ের প্রায় ২০ হাজার মানুষ

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপরে
এস দিলীপ রায়
এস দিলীপ রায়

বৃষ্টি আর উজানে ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে বেড়েছে তিস্তার পানি। ফলে লালমনিরহাটে তিস্তাপাড়ের ২০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

আজ শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানিতে তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এর ফলে চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের তিস্তাপাড়ের প্রায় ৩৫টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজারের বেশি মানুষ।

সেসব এলাকায় আমন ধান ও নানা সবজির ক্ষেত তলিয়ে গেছে। রাস্তা-ঘাট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় চলাচলের কষ্টে পড়েছেন সেসব এলাকার মানুষ। ঘরের ভেতর পানি উঠায় রান্না করতে পারছেন না বন্যা উপদ্রুত এলাকার মানুষজন। শুকনো খাবার খেতে হচ্ছে তাদের।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেছেন, 'উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তায় পানির প্রবাহ বেড়েছে। সে কারণে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি গেটের সবগুলো খোলা রাখা হয়েছে।'

'পলি ও বালুতে তিস্তার তলদেশ উঁচু হয়ে যাওয়ায় সামান্য পানি বাড়লে তা নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোয় ঢুকে পড়ে। তিস্তাপাড়ের প্রায় ৩৫টি গ্রামে পানি। আরও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।'

'বর্তমানে গ্রামগুলোতে ২০ হাজারের বেশি মানুষ পানি বন্দি হয়ে আছেন,' যোগ করেন তিনি।

আদিতমারী উপজেলার চর নরসিংহ গ্রামের কৃষক মমতাজ আলী (৬৩) ডেইলি স্টারকে বলেন, 'তিস্তায় পানি বেড়ে যাওয়ায় বাড়িতে পানি ঢুকেছে। রাস্তা-ঘাট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে। আমন ধান ও সবজির ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে।'

লালমনিরহাট সদর উদর উপজেলার চর কালমাটি গ্রামের কৃষক আতিয়ার রহমান (৫৮) ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ঘরের ভেতর প্রায় কোমর পানি। রান্না করতে পারছি না। শুকনো খাবার খেয়ে থাকতে হচ্ছে। নলকূপ বন্যার পানির নিচে। বিশুদ্ধ পানির সংকটে আছি।'

আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমার ইউনিয়নে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। চরাঞ্চলের পানিবন্দি অনেক মানুষ গরু-ছাগল ও আসবাবপত্র নিয়ে উঁচু-স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।'

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বন্যা মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। পানিবন্দি লোকজনকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হবে।'