অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশন মন্ত্রীর সঙ্গে প্রবাসীদের ভ্যাকসিন পাঠানোর আলোচনা

আকিদুল ইসলাম
আকিদুল ইসলাম

বাংলাদেশে ৫০ মিলিয়ন অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন উপহার হিসেবে পাঠানোর অগ্রগতির বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইমিগ্রেশন, সিটিজেনশিপ, মাইগ্রেশন সার্ভিস ও মাল্টিকালচারাল বিষয়ক মন্ত্রী এলেক্স হকের সঙ্গে একটি অনলাইন আলোচনা সভা করেছেন প্রবাসীরা।

গতকাল রোববার অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে ইমিগ্রেশন মন্ত্রীর এ জুম মিটিংয়ে আরও অংশ নেন দেশটির সাবেক ইমিগ্রেশন মন্ত্রী ও নিউ সাউথ ওয়েলস ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির সভাপতি ফিলিপ রাডোক এবং সংসদ সদস্য উইন্ডি লিন্ডসে।

untitled_design_-_2021-08-02t172303.484.jpg
রোববার অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সে দেশের ইমিগ্রেশন মন্ত্রীর জুম মিটিং। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ থেকে এ মিটিংয়ে যোগ দেন করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি ডা. মো. শহীদুল্লাহ।

ইমিগ্রেশন বিষয়ক মন্ত্রী এলেক্স হক শুরুতেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিষয়ে বলেন, আমি অভিবাসন মন্ত্রী হিসাবে বলতে চাই, অভিবাসী হিসেবে বাংলাদেশিরা খুবই ভালো। আর আজকের এই মিটিং প্রমাণ করছে, বাংলাদেশকে তারা কতোটা ভালোবাসে। অস্ট্রেলিয়া সব সময়ের মত এবারেও বাংলাদেশের পাশে থাকবে। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশকে করোনা মোকাবিলার জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকার ৫০ লাখ ডলার সাহায্য করেছে।'

তিনি আরও বলেন, 'আমরা চাই না বাংলাদেশ ভারতের মত পরিস্থিতিতে পড়ুক। আমরা চাই না সেখানে প্রতিদিন শতশত মানুষ মারা যাক।'

মিটিংয়ে উইন্ডি লিন্ডসে ও ফিলিপ রাডোক জানান, বাংলাদেশে ভ্যাকসিন পাঠানোর বিষয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকারের উচ্চ পর্যায়ে তারা কথা বলেছেন।

untitled_design_-_2021-08-02t172609.467.jpg
জুম মিটিংয়ে কথা বলছেন অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার সুফিউর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

এ সময়, অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার সুফিউর রহমান জানান, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া সরকারের ভ্যাকসিন বিষয়ক আলোচনা চলছে।

ডা. শহীদুল্লাহ বাংলাদেশের বর্তমান করোনা পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশে দ্রুত ভ্যাকসিনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে আলোচনা করেন।

তিনি জানান, এখনও বাংলাদেশে ৩০ কোটি ভ্যাকসিন দরকার।

untitled_design_-_2021-08-02t172542.307.jpg
বাংলাদেশ থেকে এ মিটিংয়ে যোগ দেন করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি ডা. মো. শহীদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার ৮টি রাজ্যের ১১৬টি সংগঠনকে এই জুম মিটিংয়ে অংশ নেয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এর মধ্যে বিভিন্ন সংগঠনের ১০৩ জন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মিটিংয়ে যোগ দেন। এ মিটিং আয়োজনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন কেন্টারবুরি-ব্যাংক্সটাউন কাউন্সিল এলাকার লিবারেল পার্টির সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর শাহে জামান টিটু। মিটিং পরিচালনা করেন ডা. আয়াজ চৌধুরী ও প্রকৌশলী আব্দুল মতিন।

বাংলাদেশে ৫০ মিলিয়ন অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন উপহার হিসেবে পাঠানোর জন্য অস্ট্রেলিয়ান পার্লামেন্টে প্রবাসীদের একটি আবেদনের অনুমোদন দেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এখন ই-পিটিশনে চলছে সই সংগ্রহ। অস্ট্রেলিয়ান যে কোনো নাগরিক এই পিটিশনে সই করতে পারবেন। আগামী ১২ আগস্টের আগে কমপক্ষে ১০ হাজার সই সংগৃহীত হলে পার্লামেন্ট সেটা স্পিকারের মাধ্যমে সংসদে উত্থাপন করবে।

অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো মাষ্টারশেফের আলোচিত ও প্রশংসিত মুখ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান কিশোয়ার চৌধুরী ইতোমধ্যে এই ই-পিটিশনে সই করেছেন। তিনি বাংলাদেশি-অস্ট্রেলিয়ান কমিউনিটিকে এতে সইয়ের জন্যে অনুরোধ করেছেন যেন উদ্বৃত্ত অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন বাংলাদেশের জন্য পাঠানো হয়।

আকিদুল ইসলাম: অস্ট্রেলিয়া-প্রবাসী লেখক, সাংবাদিক