অস্ট্রেলিয়া প্রবাসীদের ভ্যাকসিন পাঠানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত
অস্ট্রেলিয়া থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা উপহার হিসেবে বাংলাদেশে পাঠাতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা অস্ট্রেলিয়া পার্লামেন্টে আবেদন করার আগে সরাসরি একটি আবেদন পাঠান প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনের কাছে।
এরপরই তারা চিঠি লেখেন অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে। তারা আলাদাভাবে আরেকটি চিঠি লেখেন বিরোধী দলীয় নেতা ফিলিপ রাডোককে।
ফিলিপ অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে খুবই প্রভাবশালী। তিনি নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের লেবার পার্টির সভাপতি। এক সময় অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের ইমিগ্রেশন বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন। তিনি অভিবাসী বাংলাদেশি বান্ধব রাজনৈতিক।
ফিলিপ রাডোক জানিয়েছেন, তার কাছে পাঠানো বাংলাদেশিদের চিঠিটি তিনি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এনেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার ১০৫টি প্রভাবশালী বাংলাদেশি সংগঠন বাংলাদেশে অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা পাঠানোর প্রচেষ্টায় যুক্ত হয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এই প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ায় এতগুলো বাংলাদেশি সংগঠন একসঙ্গে কোনো কাজে অংশ নিয়েছে।
সংগঠনগুলো আবেদনের পক্ষে নিজ নিজ এলাকার ক্ষমতাসীন ও বিরোধীদলের সংসদ সদস্যদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
অভিবাসী বাংলাদেশিরা মনে করছেন, অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সংসদে তাদের আবেদনটি উত্থাপিত হলে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা উভয়ই এটি বিশেষ বিবেচনায় আনবেন। কেননা, অস্ট্রেলিয়ার ভোটের রাজনীতিতে অভিবাসী বাংলাদেশিদের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১০৫টি সংগঠনের পাঠানো আবেদন অনুযায়ী, দুই কোটি ৫০ হাজার জনগোষ্ঠীর দেশটিতে বাংলাদেশিদের সংখ্যা প্রায় এক লাখ।
২০১১ সালের সেনসাস রিপোর্টে অস্ট্রেলিয়ায় মোট বাংলাভাষীর সংখ্যা ছিল ৩৫ হাজার ৬৪৬ জন। ২০১৬ সালের সেনসাসে এই সংখ্যা বেড়ে ৫৪ হাজার ৫৬৭-তে পৌঁছায়। ২০২১ সালের পরিসংখ্যান এখনো পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশি অভিবাসীদের ধারণা, বর্তমানে তাদের সংখ্যা ৯০ হাজারের কাছাকাছি।
বাংলাদেশিরা জন্মগতভাবেই রাজনীতি সচেতন ও রাজনীতিতে উচ্চকণ্ঠ। এটা অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিবিদরাও ভালো করেই জানেন। তাই অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক মঞ্চে বাংলাদেশিদের কদর অন্য ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর থেকে অনেকটাই বেশি।
এ ছাড়াও, দেশটিতে অনেক বাংলাদেশিই মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছেন এবং তাদের মধ্যে অনেকেই স্থানীয় কাউন্সিলের কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিতও হয়েছেন। তারাও ব্যক্তিগতভাবে এই আবেদনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে উদ্যোগী হয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে যে ১০৫টি বাংলাদেশি সংগঠন আবেদন করেছে, তার প্রধান সমন্বয়ক ড. আয়াজ চৌধুরী। তিনি ইউনাইটেড বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়ার প্রেসিডেন্ট ও অবার্না হাসপাতাল মেডিকেল স্টাফ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, 'অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী অধিকাংশ বাংলাদেশি বর্তমানের বিরোধী দল লেবার পার্টির সমর্থক। সঙ্গত কারণেই সংসদে তারা আমাদের আবেদনের পক্ষে কথা বলবেন। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের জন্য একটি সুযোগ এসেছে বাংলাদেশিদের তাদের পক্ষে নেওয়ার। অভিজ্ঞ রাজনৈতিক হিসেবে তারাও সুযোগটি কাজে লাগাতে চাইবেন।'
আয়াজ চৌধুরী মনে করেন, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩০ কোটি টিকা দরকার। তাই সরকারি উদ্যোগ ছাড়া এর সমাধান অন্য কোনোভাবে সম্ভব নয়।
অস্ট্রেলিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে সরকারি উদ্যোগ ও তাদের ভূমিকা বিষয়ে জানতে চাইলে এক ইমেইল বার্তায় তারা জানান, কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো অনুসন্ধান করতে হাইকমিশন অস্ট্রেলিয়া সরকারের সঙ্গে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছে। বৈদেশিক বিষয় ও বাণিজ্য অধিদপ্তরের (ডিএফএটি) উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাইকমিশনার সাক্ষাৎ করেছেন এবং কোভিড-১৯ টিকা সরবরাহসহ সম্ভাব্য সহায়তার জন্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
তারা আরও বলেন, ১০০টিরও বেশি বাংলাদেশি সংগঠন সম্মিলিতভাবে অস্ট্রেলিয়া পার্লামেন্টে যে আবেদন করেছে, তাতে হাইকমিশন খুবই আনন্দিত এবং এ বিষয়ে তারাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আকিদুল ইসলাম: অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী লেখক, সাংবাদিক