গ্রিস-মাল্টা-আলবেনিয়ায় প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট সেবা চালু হবে সোমবার
বলকান উপদ্বীপের একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত ইউরোপীয় দেশ গ্রিস এবং এর সীমান্তবর্তী আলবেনিয়া আর দূরবর্তী দ্বীপ রাষ্ট্র মাল্টার প্রবাসী বাংলাদেশিরা ই-পাসপোর্ট সুবিধায় যুক্ত হতে চলেছেন।
দেশের বাইরে জার্মানির বার্লিনের পর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে গ্রিসের এথেন্সে বাংলাদেশ দূতাবাসে চালু হচ্ছে ই-পাসপোর্ট সেবা। এই দূতাবাসের অধীন মাল্টা ও আলবেনিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশিরাও ই-পাসপোর্ট পাবেন।
আগামী সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এথেন্সে বাংলাদেশ দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
এ তথ্য নিশ্চিত করে গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসুদ আহ্মেদ জানিয়েছেন, গত আগস্টের মাঝামাঝিতে ই-পাসপোর্ট প্রক্রিয়ার যন্ত্রপাতি ও একটি মোবাইল ইউনিট এথেন্স দূতাবাসে পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে যন্ত্রপাতি স্থাপনসহ সবধরনের প্রস্তুতি শেষ হয়। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরপরই প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট সেবা দেওয়া পুরোদমে শুরু হয়ে যাবে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, 'উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য, বৈধতার মেয়াদ বৃদ্ধি, স্মার্ট ইমিগ্রেশনসহ নানা সুবিধার ই-পাসপোর্ট আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রবাসীদের অনেক এগিয়ে আনবে। এতে তাদের যাতায়াতও অনেক সহজ হবে।'
দূতাবাসের কাউন্সেলর মোহাম্মদ খালেদ জানান, এথেন্স দূতাবাস থেকে নির্ধারিত ফি দিয়ে গ্রিসসহ তিন দেশের প্রবাসীরা ই-পাসপোর্ট সেবা নিতে পারবেন। মাল্টা ও আলবেনিয়া এবং গ্রিসের দূরবর্তী দ্বীপাঞ্চলের বাংলাদেশিরা দূতাবাসে না এসেই কন্স্যুলার ক্যাম্পে মোবাইল ইউনিটের মাধ্যমে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
বর্তমানে গ্রিসে প্রায় ৩৫ হাজার, মাল্টায় আড়াই হাজার, আলবেনিয়ায় ১ হাজারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশি বসবাস করেন।
বাংলাদেশ কমিউনিটির সভাপতি আবদুল কুদ্দুস বলেন, ই-পাসপোর্ট সেবার ক্ষেত্রে প্রথম সারিতে স্থান পাওয়ায় আমরা নিজেদের অনেক ভাগ্যবান মনে করছি, কারণ ইউরোপের অন্যদেশগুলোর চেয়ে আমরা সুযোগ সুবিধায় কিছুটা পিছিয়ে। এখন ইউরোপসহ উন্নত বিশ্বে আমাদের পাসপোর্টের মান বাড়বে। প্রবাসীরা নানা বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পাবেন, বিশেষ করে বিমানবন্দরের ভোগান্তি। এছাড়া পাসপোর্টের ১০ বছরের দীর্ঘ মেয়াদের সুবিধাও পাবেন প্রবাসীরা।
অনুভূতি জানাতে গিয়ে গ্রিসে বাংলাদেশি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান দোয়েল একাডেমির সভাপতি সোহরাব হোসেন ইসমাইল বলেন, গ্রিসসহ ইউরোপ অনেক আগেই ই-পাসপোর্ট যুগে প্রবেশ করেছে। আমরা এতদিন পিছিয়ে ছিলাম। যদিও দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশই প্রথম ই-পাসপোর্ট চালু করেছে। এখন আমরা ইউরোপের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারব। স্মার্ট ইমিগ্রেশনের সুবিধা নিতে পারব।
গ্রিক বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি জহিরুল ইসলাম বলেন, ই-পাসপোর্ট ব্যবহার করে ই-গেট দিয়ে কম সময়ে প্রবাসীরা ইমিগ্রেশন পার হতে পারবেন। ইমিগ্রেশনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পাসপোর্ট স্টাম্পিংসহ বিমানবন্দরকেন্দ্রিক দীর্ঘসূত্রিতা ও হয়রানি কমে যাবে। নিঃসন্দেহে প্রবাসীদের জন্য এটি বড় প্রাপ্তি।
গ্রিস থেকে দূরত্বের কারণে মাল্টার প্রবাসীদের এথেন্স দূতাবাসে গিয়ে কনস্যুলার সেবা নেওয়া কষ্টসাধ্য। তাই এথেন্স থেকে কনস্যুলেট দল বিভিন্ন সময় মাল্টায় গিয়ে ক্যাম্পের মাধ্যমে পাসপোর্টসহ অন্য সেবাগুলো দিয়ে থাকে। একই ব্যবস্থা গ্রিসের পাশের দেশ আলবেনিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও। এই মোবাইল ইউনিটের কল্যাণে এই প্রবাসীরাও ই-পাসপোর্ট সুবিধাও পেতে যাচ্ছেন।
উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য, স্মার্ট ইমিগ্রেশন পদ্ধতির সুবিধার চেয়ে ই-পাসপোর্টের বৈধতার মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধাটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন মাল্টা প্রবাসীরা।
মাল্টার বাংলাদেশি কমিউনিটি সংগঠক রাজিব দাশ বলেন, আমাদের সব সময় দূতাবাসের কনস্যুলেট ক্যাম্পের অপেক্ষায় থাকতে হয়। জরুরি পাসপোর্টের ক্ষেত্রে তো গ্রিস যাওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। সেক্ষেত্রে ১০ বছরের মেয়াদের ই-পাসপোর্ট আমাদের দুর্ভোগ অনেক কমিয়ে দেবে। লম্বা সময়ের জন্য নিশ্চিন্ত থাকব।
একই অভিমত আলবেনিয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতা ব্যবসায়ী ইউসুফ আজিজের। তিনি বলেন, 'শুধু আমরাই নয় সারাবিশ্বের প্রবাসী বাংলাদেশিরা দীর্ঘ মেয়াদের সুবিধা নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারবেন।'
'দেশে যাতায়াত ছাড়াও আমাদের মতো প্রবাসী ব্যবসায়ীদের নানা প্রয়োজনে ইউরোপের বাইরে অনেক দেশে যেতে হয়। ইমিগ্রেশনের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে অসহায় লাগে। এখন ই-পাসপোর্টে ভ্রমণ অনেক সহজ হয়ে যাবে।'
এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর বার্লিনে বাংলাদেশ দূতাবাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু হয়। বার্লিন দূতাবাসের মাধ্যমে জার্মানি ছাড়াও চেক রিপাকলিক ও কসোভোর প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই সুবিধার আওতায় এসেছেন।
বার্লিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ূব চৌধুরী জানিয়েছিলেন, সব প্রস্তুতির পরও মহামারির কারণে দেশের বাইরে বাংলাদেশ মিশনগুলোতে ই-পাসপোর্ট চালু করতে দেরি হয়েছে। এখন ধারাবাহিকভাবে দ্রুত সব মিশনে এই কার্যক্রম চালু করা হবে।
লেখক: ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক