জাপানে ক্ষমতাসীন জোটের জয়, কিশিদাই প্রধানমন্ত্রী থাকছেন
'রেইওয়া' যুগে নিম্নকক্ষের প্রথম জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন এলডিপি জোটের ওপরেই আস্থা রেখেছে জাপানি জনগণ। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফুমিও কিশিদাও উতরে গেছেন প্রথম পরীক্ষায়। দায়িত্ব গ্রহণের ১১ দিনের মাথায় নিম্নকক্ষ ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে ১ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে সফলভাবে জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করলেন তিনি।
গতকাল রোববার ছিল জাপানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন জোট (এলডিপি ও কোমেইতো পার্টি) সম্মিলিতভাবে ২৯১টি আসনে জয়ী হয়। এর মধ্যে এলডিপি এককভাবে ২৫৯টি এবং কোমেইতো ৩২টি আসন পায়। অপরদিকে বিরোধী দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৭৪টি আসনে জয়ী হয়। এর মধ্যে সিডিপি পেয়েছে ৯৬টি, ইশিন ৪১টি, ডিপিপি ১১টি, জেসিপি ১০টি এবং অন্যান্য ১৬টি।
এর আগে ইশিনের (নিপ্পন ইশিন নো কাই) আসন সংখ্যা ছিল মাত্র ১১টি। গতকালের নির্বাচনে দলটি ৪১ আসন পেয়ে ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে তাদের সম্ভাবনার জানান দিয়েছে। ১১ আসন পাওয়া ডিপিপির আগে আসন ছিল ৮টি। অপরদিকে আসন কমেছে জাপান কম্যুনিস্ট পার্টির। তারা পেয়েছে ১০টি আসন। আগে তাদের আসন সংখ্যা ছিল ১২টি।
মোট ৪৬৫টি আসনে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ২৮৯টি আসনে সরাসরি একক আসনের অঞ্চল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বাকি ১৭৬টি আসনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য একটি দলের বা জোটের ২৩৩টি আসনই যথেষ্ট।
নির্বাচনী প্রচারণায় কিশিদা বলেছিলেন, নির্বাচনকে তিনি দেখছেন আস্থা ভোট হিসেবে। যদি তার জোট ২৩৩টি আসন পায় তবে তিনি ধরে নেবেন তার প্রতি জাপানি জনগণের আস্থা আছে।
জোট থেকে অবশ্য আগের ৩০৫টি আসনই ধরে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছিল। এলডিপি আগে ২৭৬টি ও কোমেইতো আগে ২৯টি আসন পেয়েছিল।
উল্লেখ্য, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট জাপান পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের নেতৃত্বদানকারী দল সরকার গঠন করে থাকে। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ৪ বছর পর পর নির্বাচন হয়। ২০১২ সাল থেকে এলডিপি জোট দেশটির সরকার পরিচালনা করে আসছে।
rahmanmoni@gmail.com