দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে ২৪ হাজার শ্রমিক নেবে অস্ট্রেলিয়া

By আকিদুল ইসলাম

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো থেকে 'এগ্রিকালচার ভিসা'য় ২৪ হাজার শ্রমিক নেবে অস্ট্রেলিয়া।

কোন কোন দেশ এই ভিসা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হবে তা এখনো দেশটির সরকার জানায়নি। তবে আগামী মাস থেকে এই ভিসা কর্মসূচির নিয়মাবলীর কাজ শুরু হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার কৃষিমন্ত্রী ডেভিড লিটলপ্রাউড গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সরকার এই প্রকল্পে যোগ দেওয়ার জন্য কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা করবে।

তিনি বলেন, 'এটি আমাদের জাতির ইতিহাসে কৃষি শ্রমের সবচেয়ে বড় কাঠামোগত সংস্কার। এটি অস্ট্রেলিয়ার গ্রামাঞ্চলে পরবর্তী প্রজন্মের অভিবাসীদের নিয়ে আসার জন্য, কৃষি উন্নয়ন ও অস্ট্রেলিয়ার অঞ্চলগুলোকে সমৃদ্ধ করার জন্য একটি বৃহৎ পরিকল্পনা।'

মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ, মৎস্য ও বনায়ন খাতের পাশাপাশি ফল-সবজি বাছাই এবং খামারের অন্যান্য কাজ এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

গত সোমবার ফেডারেল সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী দক্ষ, আধা-দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকদের জন্য এই ভিসা প্রযোজ্য হবে।

অস্ট্রেলিয়া প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক 'ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা' দিয়ে থাকে। এই ভিসা ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী যুবকদের অস্ট্রেলিয়া পরিদর্শন করতে ও আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের ভ্রমণ তহবিল যোগাতে সহযোগিতা করে।

উন্নত দেশসহ থেকে আসা পর্যটকরা এখানের খামারে খণ্ডকালীন কাজ করে থাকেন। তারা এ দেশের বিশাল শ্রম চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও রাখেন। কিন্তু, চলমান মহামারির কারণে কোনো পর্যটক আসতে পারেনি। প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিকের সংকটে পড়েছে প্রশান্ত মহাসাগর তীরবর্তী দেশটি।

এই শ্রম সংকট নিরসনে কয়েকটি দেশ থেকে ২৪ হাজার কৃষি শ্রমিক আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এই ভিসা দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আবেদনকারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আগামী বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ শর্তাবলী তৈরি ও বাস্তবায়ন করা হবে।

এই ভিসার অধীনে যারা আসবেন তারা অস্ট্রেলিয়ার স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বাস করার সুবিধা পাবেন।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় এই কর্মসূচি গতিশীল ও শক্তিশালী করার জন্য পররাষ্ট্র, বাণিজ্য, স্বরাষ্ট্র ও কৃষি-জল-পরিবেশ বিভাগগুলো ভিসা ডিজাইন করবে যাতে শ্রমিকদের জন্য উচ্চতর সুবিধা নিশ্চিত করা যায়।

এই বিভাগগুলো প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশসহ অন্যান্য অংশীদার সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে, যাতে তাদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।

কৃষিমন্ত্রী বলেছেন, 'আমাদের কৃষকরা যথেষ্ট ধৈর্য ধারণ করেছেন। পরবর্তী ফসল তোলার আগেই তাদের সহযোগিতার জন্য কর্মী দিতে হবে।'

এই ভিসা চালুর মূল লক্ষ্য হচ্ছে, এখন ও ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ান কৃষকদের প্রয়োজনীয় শ্রমশক্তি নিশ্চিত করা।

মন্ত্রী ডেভিড লিটলপ্রাউড আরও বলেছেন, 'একটি নতুন মৌসুমি কৃষি-কর্মী ভিসার ঘোষণা কৃষি শিল্পের জন্য একটি বিশাল স্বস্তি হিসেবে আসবে যা আমাদের কৃষকদের অনেক দিনের দাবি ছিল।'

নতুন ভিসা ব্যবস্থায় শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ বিধি থাকবে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ভিসার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ান কৃষকরা তাদের শ্রমের চাহিদা পূরণ করবে।

ভবিষ্যতে সব খাতেই অস্ট্রেলিয়ার কর্মশক্তির চাহিদা পূরণ করতে ফেডারেল সরকার রাজ্য ও অঞ্চলগুলোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।

নতুন ভিসা প্রকল্পে কোনো মাইগ্রেশন এজেন্টের মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ নেই। কেবলমাত্র চুক্তিবদ্ধ দুটি দেশের সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাধ্যমেই আবেদন করা যাবে।

আকিদুল ইসলাম: অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী লেখক, সাংবাদিক