দেশ ছেড়ে পালানো আফগানদের আশ্রয় দেওয়ার কথা ভাবছে অস্ট্রেলিয়া

আকিদুল ইসলাম
আকিদুল ইসলাম

দেশ ত্যাগ করে পালানো আফগানদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকার। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

দেশটির সরকারি একটি সূত্র এবিসি নিউজকে জানিয়েছে, শরণার্থী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় অনুমোদিত আফগান নাগরিকদের সংখ্যা বাড়ানোর কাজ চলছে। মানবিক ভিসার ব্যাপারে পালিয়ে আসা আফগানদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার মানবাধিকার গোষ্ঠীও ফেডারেল সরকারকে পালিয়ে আসা আফগানদের বিশেষ ভিসা সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের অস্ট্রেলিয়া শরণার্থী অধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা গ্রাহাম থম বলেছেন, 'ফেডারেল সরকারের উচিত অস্ট্রেলিয়ায় থাকা আফগানদের জন্যও বিবেচনা করা। যারা এখানে অস্থায়ী ভিসায় রয়েছেন তারা প্রতি তিন বছর পর পুনরায় আবেদন না করেই যেন এ দেশে থাকতে পারেন।'

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন নাইন নিউজকে বলেছেন, 'আফগানিস্তানের চেয়ে জটিল জায়গা এখন আর পৃথিবীতে নেই। অস্ট্রেলিয়া এবং আমাদের মিত্ররা তাদের শান্তি রক্ষার জন্য অনেক কিছু করেছে কিন্তু এটি বিশ্বের একটি খুব অশান্ত অংশ রয়ে গেছে।'

kabul_airport_fire.jpg
গুলির শব্দে দিগ্বিদিক ছুটছেন বিমানবন্দরে আসা আফগানরা। ছবি: রয়টার্স

নাইন নিউজের সংবাদে আরও বলা হয়, আফগান তালেবানরা দেশটি পুনঃদখলের মুহূর্ত থেকেই হাজার হাজার আতঙ্কিত নাগরিক দেশ ছাড়ার জন্য ছুটছে এয়ারপোর্টের দিকে। প্রচণ্ড গুলি বর্ষণের মধ্যেও ভীত সন্ত্রস্ত মানুষ ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে পড়েছে। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে আমেরিকা সমর্থিত সরকারের যারা সমর্থক ছিলেন এবং আমেরিকা ও তার মিত্র বাহিনীকে যারা নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন তারা দেশ ছাড়াকেই জীবন রক্ষার একমাত্র উপায় মনে করছেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিস্থিতি একেবারেই বিশৃঙ্খল। হাজার হাজার মানুষ আফগানিস্তান ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তালেবান কাবুল দখলে নামলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

মে মাসে অস্ট্রেলিয়া আফগানিস্তান থেকে তাদের সব সৈন্য ফিরিয়ে আনে এবং সেখানকার অস্ট্রেলিয়ান দূতাবাস বন্ধ করে দেয়। আফগানিস্তানে সৈন্য পাঠানো এবং 'লজ্জাজনকভাবে' তা প্রত্যাহার করায় ফেডারেল সরকার সমালোচনার মুখে পড়েছে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন এসবিএস নিউজকে বলেন, স্বাধীনতা সর্বদা মূল্যবান, এর জন্য লড়াই করাটাও মূল্যবান। ফলাফল যাই হোক না কেন, আমরা ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে বের করতে এবং আফগানিস্তানের বাইরে আল-কায়েদাকে অপারেশনের ঘাঁটি না দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য সেখানে গিয়েছিলাম।'

আফগানিস্তানে তালেবানের নিয়ন্ত্রণ দখলের পর আফগানিস্তানে অস্ট্রেলিয়ার ২০ বছরের সম্পৃক্ততা বৃথা যাওয়ার কথা অস্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন, কোনো অস্ট্রেলিয়ান, যিনি আমাদের ইউনিফর্ম পরেছেন তিনি কখনোই অর্থহীন মারা যাননি।'

অস্ট্রেলিয়ান ও মিত্র সেনাদের যেসব আফগান নাগরিক সহযোগিতা করেছেন তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি খুব গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিস পেইন গতকাল সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনের সঙ্গে কথা বলেছেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

আকিদুল ইসলাম: অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী লেখক, সাংবাদিক