দ. কোরিয়ায় বাংলাদেশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভিসা বন্ধ, হতাশায় শিক্ষার্থীরা
দক্ষিণ কোরিয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন ধরেই ভিসা বন্ধ। এ কারণে সেমিস্টারের ক্লাস ঠিকমতো শুরু করতে না পারায় হতাশ হয়ে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এই সমস্যা শুধুমাত্র প্রফেসর ফান্ডের শিক্ষার্থীদের জন্য, অথচ বর্তমান সেমিস্টারে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি স্কলারশিপ 'জিকেএস' প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ঠিক সময়েই ভিসা পেয়েছেন এবং কোরিয়ায় এসে ক্লাসও শুরু করেছেন। শিক্ষার্থী ভিসা আংশিকভাবে চালু করায় শিক্ষার্থীদের জন্য অতি সম্ভাবনাময় স্কলারশিপের এই খাতটি হুমকির মুখে পড়েছে।
আমার বর্তমান ল্যাবে এই বছর আমার সুপারভাইজার তার ব্যক্তিগত ফান্ডের মাধ্যমে একজন বাংলাদেশি, একজন শ্রীলঙ্কান ও একজন রুয়ান্ডার শিক্ষার্থী নিয়েছেন। অন্যরা দক্ষিণ কোরিয়ায় এসে সেপ্টেম্বর সেমিস্টারে ক্লাস শুরু করলেও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর জন্য ভিসা বন্ধ থাকায় তিনি এখনো অপেক্ষায় আছেন, অথচ দক্ষিণ কোরিয়ায় এখন সরাসরি ক্লাস চালু হয়ে গিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাডমিশন পেয়েছেন অথচ ভিসার অপেক্ষায় আছেন দুই শতাধিক শিক্ষার্থী। তাদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে তাদের হতাশার কথা জানতে পেরেছি। 'জিকেএস' প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ভিসা পেলে তারা কেন পাবেন না এই নিয়ে তাদের হতাশার কথা জানিয়েছেন।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই ভিসা অপ্রাপ্তি আমাদের উচ্চশিক্ষার জন্য অন্যতম হাব এই দক্ষিণ কোরিয়ায় ভবিষ্যতে একটা নেগেটিভ ইমপ্রেশন তৈরি করবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ জিকেএসের স্কলারশিপের মাধ্যমে যতজন শিক্ষার্থী দক্ষিণ কোরিয়ায় পড়তে আসেন তার কয়েক গুণ আসেন প্রফেসর ফান্ডের মাধ্যমে। এমন অবস্থা চললে আগামীতে প্রফেসররা তাদের ল্যাবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিতে দ্বিধাগ্রস্ত হবেন বলেই মনে করি। করোনাকালীন এই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়া তাদের বর্ডার কয়েকটি দেশের জন্য সাময়িক বন্ধ করলেও বর্তমানে প্রায় সব দেশের সাথেই খুলে দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা আসতেছে, সরাসরি ক্লাসে অংশও নিচ্ছে। এখানে একমাত্র ব্যতিক্রম শুধু বাংলাদেশ। অথচ গত আগস্টে কোরিয়ান শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষণা দিয়েছিল ভ্যাক্সিনেশন টার্গেট ৭০ শতাংশ হলেই তারা বাংলাদেশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভিসা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আনবেন।
আজ শনিবার পর্যন্ত কোরিয়ায় কমপক্ষে এক ডোজ ভ্যাক্সিন নিয়েছেন এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় ৭৮ শতাংশ আর দুই ডোজ নিয়েছেন এমন মানুষের সংখ্যা ৫৩ শতাংশ। আর আমাদের দেশেও করোনা সংক্রমণের হার নিন্মমুখী। এমতাবস্তায় ভিসার জন্য অপেক্ষমান শিক্ষার্থীরা কোরিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও মন্ত্রণালয়ের তৎপরতার মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন ও দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই উচ্চ শিক্ষাখাতটিকে রক্ষার সুদৃষ্টি কামনা করছেন।
বিকাশ রায়: গবেষক, দক্ষিণ কোরিয়া, সহকারী অধ্যাপক, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর।