পর্তুগালে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, জানুয়ারিতে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা

By মো. রাসেল আহম্মেদ

২০২২ সালের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে কেন্দ্র করে পর্তুগালে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় আগামী জানুয়ারিতে দেশটিতে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মার্সেলো রেবেলো ডি সুসা গতকাল শুক্রবার এ ঘোষণা দিয়েছেন।

রাজধানী লিসবনের প্রেসিডেন্ট ভবন প্যালাসিও দে বেলেম থেকে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে মার্সেলো রেবেলো বলেন, '২০২২ সালের বাজেট প্রত্যাখ্যানের এক সপ্তাহ এবং একদিন পর আপনারদের জানাচ্ছি যে, আমি প্রজাতন্ত্রের বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেইসঙ্গে ২০২২ সালের ৩০ জানুয়ারি মধ্যে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'

তিনি জানান, সংবিধানের শর্ত অনুযায়ী সংসদীয় প্রতিনিধিত্বকারীসহ সব দলের কথা শোনা হয়েছে, রাজ্য কাউন্সিলও এ বিষয়ে একমত হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক ও আর্থিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে সংসদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গত সপ্তাহে পর্তুগালের জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট প্রত্যাখ্যান করা হয়। এর আগে কয়েক সপ্তাহের আলোচনায় সংখ্যালঘু সমাজতান্ত্রিক দল পি এস সংসদে অন্যান্য দলের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যর্থ হয়। বাজেটের বিপক্ষে ১১৭ ভোট পড়ে, পক্ষে ১০৮ ভোট পড়ে এবং ৫ জন সদস্য ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন।

করোনা পরবর্তীতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দেওয়ায় এবং পর্তুগালের বাম দলগুলো সরকারের ওপর থেকে তাদের সমর্থন সরিয়ে নেওয়ায়, ধারনা করা হচ্ছিল যে এই বাজেট পাস করা অসম্ভব হবে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও কস্তা বলেন, 'আমার যা করনীয় সবই করেছি প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদনের জন্য। এই মুহূর্তে পর্তুগালে রাজনৈতিক সংকট চলছে এবং তা নিরসনে প্রেসিডেন্ট মারসেলো রেবেলো জানিয়েছেন সব দলের সঙ্গে আলোচনা করে নির্ধারিত সময়ের ২ বছর আগেই একটি নির্বাচন দিতে হবে।'

স্থানীয় গণমাধ্যমে বলা হয়, নির্বাচনের তারিখ সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষনা করা হবে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, সব রাজনৈতিক দল সম্মত হলে জানুয়ারির ১৬ তারিখে তা অনুষ্ঠিত হবে।

রাজনেতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পর্তুগালের বর্তমান অবস্থা দেশটিকে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে এবং আগামী ফেব্রুয়ারি বা মার্চে বাজেট অনুমোদনের সম্ভাবনা আছে।

জরিপ বলছে, ক্ষমতাসীন সোশ্যালিষ্ট পার্টি আবারও জয়ী হবে। তবে পর্তুগালে ডানপন্থীদের উথানের কারণে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার সম্ভাবনা আছে দলটির।

ধারণা করা হচ্ছে, ডানপন্থীরা বেশ কিছু আসন পাবেন, যা সরকার গঠনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জে ফেলবে জয়ীদের।

লেখক: পর্তুগাল প্রবাসী সাংবাদিক।