ফুমিও কিশিদাই হচ্ছেন জাপানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী
ফুমিও কিশিদাই হতে যাচ্ছেন জাপানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। তিনি হবেন আধুনিক জাপানের ১০০তম প্রধানমন্ত্রী।
শিনজো আবে প্রশাসনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা (৬৪) জাপানের ক্ষমতাসীন জোটের অন্যতম প্রধান শরীক দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিকে (এলডিপি) নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য চারমুখী দৌড়ে প্রথম দফায় জয়লাভ করেছেন। তিনিই হচ্ছেন ইয়োশিহিদে সুগার উত্তরসূরি। তারই নেতৃত্বে আগামী নভেম্বর মাসে জাপানে একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
দলের ৩৮২ জন আইনপ্রণেতা এবং এর ১১ লাখ সদস্যের প্রথম দফার ভোটে ৪ জন প্রার্থীর কেউই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ার পর প্রতিযোগিতাটি শেষপর্যায়ে চলে যায়। আগামী ৪ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংসদীয় অধিবেশনে ৬৪ বছর বয়সী কিশিদা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হবেন।
কিশিদা বর্তমানে ভ্যাকসিন প্রদান সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী তারো কোনো'র (৫৮) ১৭০ ভোটের বিপরীতে ২৫৭ ভোট পেয়ে জিতেছেন। ইতোপূর্বে তারো কোনো পররাষ্ট্র ও প্রশাসনিক সংস্কারবিষয়ক মন্ত্রী এবং তার আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তারো কোনো যুদ্ধবিরোধী নেতা হিসেবে বেশ প্রসিদ্ধ।
প্রথম রাউন্ডে কিশিদার পক্ষে আশাতিরিক্ত ফল এসেছে এবং ৪ জন প্রতিযোগীর মধ্যে তিনি শীর্ষে উঠে এসেছেন। নির্বাচনের আগে তারো কোনো ব্যাপকভাবে প্রথম দফার ভোটের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হয়েছিলেন।
টোকিওর এক হোটেলের বলরুমে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
কিশিদা নির্বাচনের পর মঞ্চে ওঠার সময় বরাবরের মতোই শান্ত ও দৃঢ়চেতা ছিলেন। মঞ্চে উঠে অভিবাদন শেষে কিশিদা উপস্থিত সব আইনপ্রণেতার উদ্দেশে বলেন, 'আমাদের দেশের গণতন্ত্র সংকটে আছে। মানুষ মনে করে যে, রাজনীতিতে তাদের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে না।'
তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'আমি যে জিনিসটিতে ভালো আছি, তা হলো অন্য লোকের কথা শোনা। আমাদের জনগণ দেখবেন যে, আমাদের নেতা পরিবর্তন হয়েছে, তাই তারা আমাদের সমর্থন দেবেন।'
কিশিদা আরও বলেন, 'জাপান বর্তমানে কোভিড সংকট, বয়স্ক জনসংখ্যা, ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে মুক্ত এবং উন্মুক্ত রাখাসহ একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। মানুষের জন্য নতুন পুঁজিবাদ তৈরি করাসহ আমাদের এ সব সমস্যা থেকে উত্রে যেতে হবে এবং আমরা পারব। আমাদের পারতে হবে।'