মণ্ডপ-মন্দিরে হামলায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে টোকিওতে প্রতিবাদ সভা
সারা দেশে পূজা মণ্ডপ ও মন্দিরে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবিতে জাপানের টোকিওতে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
টোকিওর কিতা সিটি আকাবানে বুনকা সেন্টারে সার্বজনীন পূজা কমিটি জাপান এই কর্মসূচির আয়োজন করে। সংগঠনটির উপদেষ্টা ড. কিশোর কান্তি বিশ্বাস সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন সুখেন ব্রহ্ম। সমাবেশে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের প্রবাসীরা উপস্থিত হয়ে মত প্রকাশ করেন।
বক্তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে মণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর, মন্দিরে হামলা এবং হিন্দুদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারের দাবি জানান।
তারা বলেন, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল তাদের অপরাজনীতির উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার হীন মানসে উগ্র সাম্প্রদায়িক কার্যক্রমের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টে ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাই প্রাণ দিয়েছে, আবার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে যুদ্ধ করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনাই ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠন। যেখানে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাই সহাবস্থান করবে। কিন্তু কিছু সংখ্যক স্বার্থান্বেষীদের প্ররোচনায় উগ্রপন্থীরা বার বার সেই চেতনায় আঘাত হানছে। আর হিন্দু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করেই এই আঘাত হানা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র দৃষ্টান্তমূলক কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
বক্তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ ধরনের কার্যকলাপে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তারা আরও বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক উৎসবে অংশগ্রহণ বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য। স্বাধীনতার চেতনায় গড়ে ওঠা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যে কোনো সাম্প্রদায়িক ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে দেশের সব স্তরের লোকেরা রুখে দাঁড়াবে বলে প্রবাসীরা বিশ্বাস করে।