মিডিয়া উপদেষ্টাকে নিপীড়নের অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

আকিদুল ইসলাম
আকিদুল ইসলাম

অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষা ও যুবমন্ত্রী অ্যালান টুজ তার সাবেক মিডিয়া উপদেষ্টা রাচেল মিলারের করা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক এবং নিপীড়নের অভিযোগে পদত্যাগ করেছেন।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন অভিযোগ পাওয়ার পর পার্লামেন্টকে জানিয়েছেন যে, তিনি টুজকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেছেন, কারণ মন্ত্রীর মান লঙ্ঘন হয়েছে কিনা তা তার বিভাগ তদন্ত করবে।

প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেছেন, 'মিলারের দাবির গুরুত্বের পরিপ্রেক্ষিতে এই বিষয়গুলি ন্যায্যভাবে এবং দ্রুত সমাধান করা গুরুত্বপূর্ণ।'

তিনি আরও বলেন, 'আমার ডিপার্টমেন্টের দ্বারা এই সমস্যাগুলোর সমাধান করার সময় নিরপেক্ষ তদন্তের সুবিধার জন্য মন্ত্রী সরে দাঁড়ানোর অনুরোধে সম্মত হয়েছেন।'

মন্ত্রী অ্যালান টুজ বলেছেন, 'আমি সম্পূর্ণরূপে আমার সাবেক মিডিয়া উপদেষ্টা রাচেল মিলারের করা আপত্তিজনক আচরণের দাবি প্রত্যাখ্যান করছি।'

মিলারের করা দুর্ব্যবহারের দাবি প্রত্যাখ্যান করে গতকাল সংসদ ভবনে মিডিয়ার কাছে নিজের উদ্বেগের বিশদ বিবরণ দিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন অ্যালান টুজ।

বিবৃতিতে টুজ বলেন, 'আমি মিলারের অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করছি। তার অভিযোগগুলো ভুল, সেরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমি এই কথাগুলো বলার জন্য দুঃখিত। আমি মিলারকে বিব্রত করতে চাই না, কিন্তু এই অভিযোগগুলোর আলোকে আমাকে আত্মরক্ষা করতে হবে।'

টুজ এ বিষয়ে তদন্তের প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং সব উপায়ে সহযোগিতা করবেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন।

অ্যালান টুজ এবং রাচেল মিলার উভয়েই ২০১৭ সালে একসঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছিলেন।

রাচেল মিলার তার অভিযোগে উল্লেখ করেন যে, ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার কালগোর্লিতে সরকারি কাজে ভ্রমণের সময় এক রাতে টুজ তাকে একটি নাইটক্লাবে নিয়ে প্রচুর মদ্যপান করতে উৎসাহিত করেছিলেন। মদ্যপানের পর তার ওপর শারীরিক নিপীড়ন করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

মিলার সাংবাদিকদের কাছে ওই রাতের একটি ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, 'আমার মোবাইল ফোন বাজতে শুরু করে। আমি জেগে উঠে আমার ফোনের কাছে পৌঁছে গেলাম। তখন ভোর প্রায় ৪টা বাজে। একটি মিডিয়া তাদের সকালের খবরের জন্য আমাকে ফোন দিয়েছিল। আমি ফোনে কথা বলার সময় অনুভব করলাম, কেউ আমার নিতম্ব এবং পায়ের পাশে লাথি মারছে। যখন আমি উঠে বসার চেষ্টা করছিলাম তখন দেখলাম তিনি মন্ত্রী। তিনি প্রচণ্ড রেগে আমাকে তার বিছানা থেকে নেমে যেতে বললেন। বুঝতে পারলাম তখন আমি সম্পূর্ণ নগ্ন। তিনি আমাকে লাথি মারতে থাকলেন যতক্ষণ না আমি বিছানার পাশ থেকে মেঝেতে পড়ে যাই। তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে চিৎকার করে বলেন যে, আমার ফোন তার ঘুম নষ্ট করেছে।'

রাচেল মিলার এক বছর আগে প্রথম এবিসি নিউজের 'ফোর কর্নারে' বলেছিলেন যে, বসের সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্ক ছিল।

ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, টুজের সঙ্গে সম্পর্ক তাকে লজ্জিত, অপমানিত, ভীত এবং ক্লান্ত করে রেখেছিল।

'আমি প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেছিলাম উদ্বিগ্ন এবং আতঙ্কিত হয়ে', সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন তিনি।

গর্ডন লিগ্যাল সিনিয়র পার্টনার পিটার গর্ডন এক বিবৃতিতে বলেন, 'রাচেল আজ তার নিজের পক্ষে এবং সাহসী নারীদের সমর্থনে কথা বলেছেন, যারা সাম্প্রতিক সময়ে এই সমস্যাটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য লড়াই করছেন।'

গতকাল রাচেল মিলার মিডিয়া বিবৃতিতে বলেছেন, 'মিডিয়ার মাধ্যমে কথা বলাই একমাত্র উপায়, যা এই সরকার শুনবে।'

আকিদুল ইসলাম: অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী লেখক, সাংবাদিক