সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি নাগরিক সমাজের বিবৃতি

By স্টার অনলাইন রিপোর্ট  

বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদ জানিয়ে আজ সোমবার বিবৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি নাগরিক সমাজ।

৪৪ জন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি-আমেরিকান নাগরিকের স্বাক্ষর করা ওই বিবৃতিতে বলা হয়, 'দুর্গাপূজা বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাৎসরিক ধর্মীয় উৎসব। শুধু পূজা উৎসবে অংশ নেওয়ার জন্য অসংখ্য প্রবাসী হিন্দু পরিবার বাংলাদেশে বেড়াতে যান। এবারও তারা গেছেন। কিন্তু উৎসবের বদলে তাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে কুৎসিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার। এই ঘটনা গভীর গ্লানির। আমরা এর নিন্দা জানাই।'

এতে আরও বলা হয়, 'সরকারিভাবে বলা হয়েছে এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা এবং এর পেছনে গভীর রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি রয়েছে। কিন্তু এটি যে বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, প্রায় অর্ধশত প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা ও অসংখ্য পুজা মণ্ডপে হামলা তার প্রমাণ।'

পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে আইনশৃঙ্খলা প্রশাসনের ব্যর্থতা অস্বীকারের কোনো উপায় নেই উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, 'বাংলাদেশে এর আগেও আমরা দেখেছি, সরকার এই রকম কঠোর ভাষায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে। কিন্তু, প্রকৃত অপরাধীকে কখনোই খুঁজে বের করা হয় না। কেউ যথাযথ শাস্তিও পায় না। আমাদের দাবি, এই নাটকের অবসান হোক। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সব অপরাধীর যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা গৃহীত হোক।'

সহিংসতা রোধের ব্যর্থতা কেবল সরকারের নয়, নাগরিক সমাজেরও উল্লেখ করে বলা হয়, 'এই ব্যর্থতা নাগরিক ও সুশীল সমাজকে বহন করতেই হবে। সংখ্যালঘুরা শুধু এই দেশের সমান অধিকারভোগী নাগরিকই নন, তারা আমাদের প্রতিবেশী ও বন্ধু। তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে যে অক্ষমতা, তার দায়ভার এই নাগরিক ও সুশীল সমাজকেও নিতে হবে। তাদের দ্বিগুণ প্রত্যয় নিয়ে সকল রকম সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হতে হবে।'

বিবৃতিতে যে ৪৪ জন স্বাক্ষর করেছেন তারা হলেন- ডেনভার থেকে ড. হায়দার আলী খান, ভার্জিনিয়া থেকে ড. আবদুন নূর, নিউ জার্সি থেকে জাফর বিল্লাহ, ম্যারিল্যান্ড থেকে ড. সৈয়দ আশরাফ আহমদ, নিউইয়র্ক থেকে আব্দুল্লাহ জাহিদ, নিউইয়র্ক থেকে ফাহিম রেজা নূর, নিউ জার্সি থেকে গোলাম সারোয়ার হারুন, ফিলাডেলফিয়া থেকে বদিউজ্জামান আলমগীর, পেনসিলভ্যানিয়া থেকে ড. খালেকুজ্জামান মতিন, নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে ড. রিয়াজ ও জেবিন চৌধুরী, ফিলাডেলফিয়া থেকে ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ ও ড. ফাতেমা আহমদ, ফিলাডেলফিয়া থেকে ড. আবুল কালাম আযাদ ও সামিরা সায়ীদ, নিউ জার্সি থেকে ড. নূরুন নবী ও ড. জিনাত নবী, ফিলাডেলফিয়া থেকে ড. শহীদুল্লাহ ও শাহিদা আফরোজ, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ড. মোয়াজ্জেম ও ড. রুবি হোসেন, নিউইয়র্ক থেকে কৌশিক আহমেদ, নিউইয়র্ক থেকে আহমাদ মাযহার, নিউইয়র্ক থেকে হাসান ফেরদৌস ও রানু ফেরদৌস, নিউইয়র্ক  থেকে ড. নজরুল ইসলাম, নিউইয়র্ক থেকে নিনি ওয়াহেদ, আলাবামা থেকে জামাল উদিন হোসেন, নিউইয়র্ক থেকে সেমন্তী ওয়াহেদ, নিউইয়র্ক থেকে বিশ্বজিত সাহা, নিউইয়র্ক থেকে ফকির ইলিয়াস, নিউইয়র্ক থেকে ফারহানা ইলিয়াস তুলি, নিউইয়র্ক থেকে শামস আল মোমিন, নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে ড. মালেকা আহমেদ ও মীর হাকিম, লাস ভেগাস থেকে ড. চৌধুরী হাফিজ আহসান ও ড. সেলিনা পারভীন, নিউ জার্সি থেকে সালাউদ্দিন ও রাজিয়া আহমেদ, কানেকটিকাট থেকে গুলশান আরা কাজী ও কাজী বেলাল, বস্টন থেকে ড. এসমেত হাকিম, ডেলাওয়্যার থেকে ড. আশিক আনসার ও ড. নুরুন্নেসা বেগম, নিউইয়র্ক থেকে ড. জিয়াউর রহমান, নিউইয়র্ক থেকে ড. মাসুদুল হাসান, ডেলাওয়্যার থেকে ইশরাত জাহান, ফিলাডেলফিয়া থেকে ড. মোহাম্মদ ও ড. সাবিনা শারমিন, নিউইয়র্ক থেকে শাহানা বেগম, নিউইয়র্ক থেকে মিনহাজ আহমেদ, নিউইয়র্ক থেকে শামীম আহমেদ, নিউ জার্সি থেকে কবীর কিরণ, নিউ জার্সি থেকে রাশা আহমেদ, ফিলাডেলফিয়া থেকে ড. ইবরুল চৌধুরী ও ফারহানা আফরোজ, নিউইয়র্ক থেকে ড. আবুল কালাম আযাদ, নিউইয়র্ক থেকে ড. মোহাম্মদ আলম।