সিডনিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের 'জাকারান্ডা বিলাস'
কঠোর লকডাউন ও করোনার নানান বিধিনিষেধ শিথিলের পর আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে সিডনি নগরী। পুরো অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের রাজধানী সিডনি।
সিডনিকে বলা হয় 'রঙিন শহর।' এখানে প্রায় প্রতি মাসেই উদযাপিত হয় আলো ঝলমল উৎসব। পুরো সিডনি যেন সব সময়ই সেজে থাকে নববধূর সাজে। সারা পৃথিবীর বিলাসী মানুষ নানা উৎসবে মেতে উঠতে ছুটে আসে প্রশান্ত মহাসাগর তীরের এই স্বপ্ননগরীতে। পৃথিবীর সব চেয়ে বড় নিউ ইয়ার উৎসবটি হয় সিডনির প্রাণকেন্দ্র হারবার ব্রিজ ও অপেরা হাউজকে ঘিরে। প্রায় দেড় বছর নির্জীব থাকার পর গত ২৫ অক্টোবর লকডাউন শিথিল হলে আবারও উৎসবমুখী মানুষের কোলাহলে মুখরিত হয়ে উঠেছে রঙিন শহরটি।
প্রায় ৫০ হাজার বাংলাদেশি বাস করে সিডনিতে। উৎসব প্রিয় বাংলাদেশিরাও এখন শুরু করেছেন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন। প্রবাসী বাংলাদেশিরা সাধারণত বেশিরভাগ উৎসবই উদযাপন করেন ঋতুভিত্তিক। বৈশাখীমেলা, পিঠা উৎসব, নবান্ন বরণ, বসন্ত উৎসব এর মধ্যে অন্যতম।
অস্ট্রেলিয়া ৪ ঋতুর দেশ। গ্রীষ্ম, শরত, শীত ও বসন্ত। এখানে ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলায় শহরের রঙ এবং শহরের মানুষের মন। অস্ট্রেলিয়ায় এখন বসন্ত। এখানকার নাগরিকের কাছে বসন্ত সবচেয়ে প্রিয় ঋতু। কঠিন শীতে নির্জীব হয়ে ঘুমিয়ে থাকা শহর আবার নতুন করে জেগে ওঠে ফুলের সুবাসে। এই সময়ে নানা রঙের শত শত ফুল ফুটলেও অস্ট্রেলিয়ায় বসন্তের 'সিগনেচার ফ্লাওয়ার' হচ্ছে জাকারান্ডা।
গভীর নীল জাকারান্ডা ফুল পুরো অস্ট্রেলিয়াকে নীল রঙে রাঙিয়ে দেয় বসন্তের শুরু থেকে শেষ দিন পর্যন্ত। মনে হয় দক্ষ কোনো শিল্পী তার তুলির আঁচড়ে পরম যত্ন নিয়ে এঁকেছেন একটি নীলাভ দেশের ছবি।
প্রতি বছরের মতো এবারও 'জাকারান্ডা বিলাস' উৎসব উদযাপন করেছেন সিডনির বাঙালি নারীরা। গত ১৩ অক্টোবর সাংস্কৃতিক সংগঠন ফাগুন হাওয়া আয়োজন করেছিল এই উৎসবের। সিডনির প্রায় সব বাংলাদেশি নারী সংগঠনের সদস্যরা এতে অংশ নিয়েছিলেন। কোগরাহ পার্কে পড়ন্ত বিকেলে সাদা আর নীল শাড়ি পড়ে উৎসব আনন্দে মেতে উঠেছিলেন সবাই। দীর্ঘ লকডাউনের পর 'জাকারান্ডা বিলাস' হয়ে উঠেছিল বাঙালি নারীদের প্রাণের মেলা।
আকিদুল ইসলাম: অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী লেখক, সাংবাদিক