সিডনি বিনোদন ক্রুজে ওমিক্রন: অস্ট্রেলিয়া জুড়ে সতর্কতা

আকিদুল ইসলাম
আকিদুল ইসলাম

প্রায় দেড় বছর লকডাউন এবং করোনার কঠোর বিধিনিষেধের পর নতুন করে জেগে উঠেছে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের রাজধানী সিডনি। মহামারির আঘাতে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ছিল এই ব্যবসায়িক নগরী।

আর ২ সপ্তাহ পরই ক্রিস্টমাস। অস্ট্রেলিয়ার সব থেকে বড় ধর্মীয় উৎসব এটি। উৎসবটি ধর্মীয় হলেও এ দেশে তা উদযাপিত হয় পারিবারিক ও সামাজিক আনন্দ উল্লাসের মধ্য দিয়ে। তাই রঙিন সাজে সজ্জিত হয়েছে সিডনি। চারিদিকে কেবলই আলোর ঝর্ণাধারা।

পরিবার থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেই ক্রিস্টমাসকে ঘিরে নিয়মিতভাবে চলছে বিভিন্ন পার্টি উদযাপন।

গত শুক্রবার 'ফ্রেকি সানডে আফ্রোভিব: দ্য লাস্ট ড্যান্স' নামে সিডনি হারবার ক্রুজে আয়োজিত হয়েছিল এমনই একটি ক্রিস্টমাস পার্টি। সেখান থেকে ফেরার পর ৫ জন যাত্রীর শরীরে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন শনাক্ত হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরিভাবে ক্রুজে থাকা ১৪০ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে। ক্রুজটি সিডনির কিং স্ট্রিট ওয়ার্ফ থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ছেড়ে যায় এবং ফিরে আসে রাত ১১টায়। আশঙ্কা করা হচ্ছে, সিডনি হারবার বোট ক্রুজ একটি 'সুপার স্প্রেডার ইভেন্টে' পরিণত হতে পারে।

একজন শীর্ষ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সতর্ক করেছেন, অস্ট্রেলিয়ায় ওমিক্রনের উত্থান একটি 'ভয়ানক সংকেত'।

রাজ্যের চিফ হেলথ অফিসার কেরি চ্যান্ট বলেছেন, 'আগামী দিনগুলোতে আরও সংক্রমণ পরীক্ষার ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওমিক্রন সংখ্যা বাড়তে পারে। আমরা আমাদের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ বন্ধুদের সঙ্গে দ্রুত এই নতুন সংক্রমণের প্রকৃতি সম্পর্কে আরও ভালভাবে বোঝার জন্য কাজ করছি।'

অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম ওমিক্রন শনাক্ত হয় গত ২৩ নভেম্বর। একজন অস্ট্রেলিয়ান ওই দিন দোহা থেকে সিডনিতে এসেছিলেন, যিনি দীর্ঘদিন নাইজেরিয়ায় ছিলেন। পরীক্ষায় তার শরীরে এই ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়।

আকিদুল ইসলাম: অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী লেখক, সাংবাদিক