সৌদিতে বাংলাদেশি নাগরিকের ২০ বছরের কারাদণ্ড: বাংলাদেশের আপিল
সৌদি আরবে নিষিদ্ধ অ্যামফেটামিন পিল বহনের দায়ে বাংলাদেশের এক অভিবাসী শ্রমিককে ২০ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন দেশটির আদালত। জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন আজ ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে।
আজ সোমবার সন্ধ্যায় জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রম কল্যাণ পরামর্শক আমিনুল ইসলাম আজ সন্ধ্যায় ফোনে দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আপিল করা হয়েছে বলে বলা হয়েছে কনস্যুলেট জেনারেলের চিঠিতে।
বাংলাদেশে থাকা ওই শ্রমিক বাশারের (৪০) পরিবার তার কারাদণ্ডকে অন্যায় বলে দাবি করেছেন এবং তাদের দাবি, ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (এইচএসআইএ) একজন কর্মচারী তাকে চলতি বছরের মার্চে বাংলাদেশ ত্যাগের সময় অবৈধ ওষুধের প্যাকেটটি বহন করতে বাধ্য করেছিল।
জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের চিঠিতে বলা হয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের বাশারকে গত ২৬ সেপ্টেম্বর সাজার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন গত ৬ অক্টোবর বলেন, 'বাশারের পক্ষে যদি কোনো প্রমাণ থাকে, সরকার সৌদি আরবের সরকারের কাছে তা পেশ করবে।' ইউএনবির খবরে আরও বলা হয়, মন্ত্রী তার অফিস থেকে বলেন, 'সৌদি বিচারকরা স্বাধীন এবং তারা কখনই প্রভাবিত হন না। তারা প্রমাণের ভিত্তিতে কাজ করেন। যদি কোনো নতুন প্রমাণ থাকে, তবে সেগুলি পেশ করা যাবে।'
সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো কনস্যুলেট জেনারেলের চিঠিতে বলা হয়েছে, জেদ্দার বিমানবন্দরে নামার পর বাশারের বিরুদ্ধে ৪০ হাজার ৯৮০টি অ্যামফেটামিন পিল বহনের অভিযোগ আনা হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, কনস্যুলেট জেনারেলকে ২৪ অক্টোবরের মধ্যে সৌদি আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে হবে।
বাশারের স্ত্রী রাবেয়া বেগমের অভিযোগ, তার স্বামীকে বিমান বন্দরের একজন কর্মচারী এমফেটামিন ট্যাবলেট বহন করতে বাধ্য করেছিল।
রাবেয়া আর বলেন, 'বাশারের ফ্লাইট ছিল চলতি বছরের ১২ মার্চ। যখন তিনি ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করছিলেন, তখন একজন কর্মচারী তাকে একটি প্যাকেট দিয়ে সেটি সৌদি আরবে বহন করতে বলেন। বাশার প্রথমে প্যাকেজটি নিতে অস্বীকার করেন, কিন্তু তিনি তাকে হুমকি দিয়ে বলেন যে, বাশার সেটা নিতে অস্বীকার করলে তাকে ফ্লাইটের অনুমতি দেওয়া হবে না।'
বাশারের ফ্লাইটের সময় এগিয়ে আসলে আর কোনো উপায় না পেয়ে প্যাকেটটি বহন করতে সম্মত হন।
রাবেয়া জানান, তিন সপ্তাহ পরে তিনি ঘটনাটি জানতে পারেন, যখন বাশার তাকে জেল থেকে ফোনে পুরো ঘটনা বর্ণনা করেন। এরপর তিনি বিমান বন্দরের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের সাহায্য চান।