সৌদি নাগরিকত্ব পেলেন কাবা’র গিলাফের প্রধান ক্যালিগ্রাফার বাংলাদেশি মুখতার আলম
সৌদি আরবের নাগরিকত্ব পেলেন মক্কার পবিত্র কাবা ঘরের গিলাফের (কিসওয়া) প্রধান ক্যালিগ্রাফার প্রবাসী বাংলাদেশি মুখতার আলম শিকদার।
বিভিন্ন পেশার দক্ষ বিদেশিদের জন্য দেশটির সরকার নাগরিকত্ব দেওয়া শুরু করার প্রথম ধাপেই তিনি এই সুযোগ পেলেন।
সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান ঘোষিত 'ভিশন-২০৩০' এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন পেশার দক্ষ বিদেশিদের নাগরিকত্ব দিচ্ছে সৌদি সরকার।
সৌদি গেজেট অনুযায়ী, গত ১১ নভেম্বর সৌদি বাদশাহর এক রাজকীয় নির্দেশনায় বিভিন্ন পেশার বিশিষ্টদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়। তাদের মধ্যে প্রথম দিন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, ইতিহাসবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও চিকিৎসক, বিনিয়োগকারী, প্রযুক্তিবিদ, ক্রীড়াবিদসহ কয়েকজন বিদেশি নাগরিকত্ব পেয়েছেন।
এই তালিকায় ক্যালিগ্রাফার মুখতার আলম শিকদারের সঙ্গে আছেন ইতিহাসবিদ ড. আমিন সিদো, ড. আবদুল করিম আল সামমাক, প্রখ্যাত গবেষক ড. মুহাম্মদ আল বাকাই ও প্রখ্যাত নাট্যশিল্পী সামান আল-আনি।
নাগরিকত্ব প্রাপ্তির পর মুখতার আলমকে সংবর্ধনা দিয়েছেন মক্কা-মদিনার পবিত্র ২ মসজিদের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও মক্কার গ্র্যান্ড ইমাম প্রফেসর ড. শায়খ আবদুর রহমান সুদাইস।
গত ১৪ নভেম্বর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মুখতারের হাতে সম্মাননা তুলে দেন শায়খ আবদুর রহমান।
এ সময় তিনি মুখতারের নেতৃত্বে একটি স্বতন্ত্র আরবি ক্যালিগ্রাফি একাডেমি এবং কাবার গিলাফের ক্যালিগ্রাফি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার জন্য প্রস্তাবনা তৈরির আদেশও দেন।
সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে মুখতার আলমের পরিচয়ে বলা হয়, তিনি বর্তমানে মক্কার পবিত্র কাবার গিলাফ (কিসওয়া) তৈরির কারখানায় প্রধান ক্যালিগ্রাফার। সৌদি আরব ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রদর্শনীতে তার ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শিত হয়েছে। ক্যালিগ্রাফি বিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণে তিনি পাঠদান করেন। পবিত্র মসজিদুল হারাম পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে তার ক্যালিগ্রাফি বিষয়ক পাঠ শেখানো হয়।
মুখতার আলম শিকদার চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের রশীদের ঘোনা গ্রামের মুফিজুর রহমান বিন ইসমাঈল শিকদারের ছেলে। বাবার চাকরি সূত্রে তিনি পরিবারের সঙ্গে সৌদি আরব যান।
মুখতার আলম মক্কার বিখ্যাত উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করে বর্তমানে পিএইচডি গবেষণা করছেন। একসময় তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়েই শিক্ষকতা করেছেন। ডিপ্লোমা, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের সার্টিফিকেটের ক্যালিগ্রাফার হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে অসংখ্য পুরস্কার ও প্রশংসা সনদ পেয়েছেন মুখতার।
শৈশব থেকেই ক্যালিগ্রাফির প্রতি আগ্রহী মুখতার আলম জানান, প্রাথমিক স্তরে পড়ার সময় থেকেই তার ক্যালিগ্রাফির প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল। এমনকি চতুর্থ শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় তিনি অন্যদের ক্যালিগ্রাফি শেখাতেন।
১৯৭৮ সাল থেকে মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদ পরিচালিত ক্যালিগ্রাফি স্কুলে ২ বছর পড়াশোনা করেন। পরে মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিল্পকলা বিষয়ে স্নাতক করেন। পরে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিল্পকলা বিষয়ে শিক্ষকতা করেন।
১৪২৩ হিজরি থেকে তিনি পবিত্র কাবাঘরের গিলাফ (কিসওয়াহ) প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। আরবি ক্যালিগ্রাফি পেশায় ৪০ বছর ধরে কাজ করছেন তিনি। মুখতার ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা বাবার কর্মসূত্রে দীর্ঘ সময় সৌদিতে কাটিয়েছেন।