স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে সিডনিতে বাংলাদেশের মানব পতাকা
স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে তৈরি করা হয় বাংলাদেশের মানব পতাকা। ২৪০ জনের একটি দল অংশ নেন এই পতাকা তৈরিতে।
গত ১১ ডিসেম্বর সিডনির ব্যাঙ্কসটাউনের পল কেটিং পার্কে 'অল অ্যালামনাই ইভেন্ট'-এর উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ওই পতাকা প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানের দিন বিকেল ৪টায় অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আনন্দঘন পরিবেশে উৎসব শুরু হয়।
বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল এবং অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন খন্দকার মাসুদুল আলম।
অনুষ্ঠানের আয়োজকরা দাবি করেন, প্রবাসে এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের জাতীয় মানব পতাকা উত্তোলিত হলো অল অ্যালামনাই ইভেন্টের উদ্যোগে।
এ ছাড়া স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে প্রকাশিত হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার আলোকে রচিত গল্প, কবিতা, প্রবন্ধের সমন্বয়ে তৈরি একটি স্মরণিকা নাম 'সুবর্ণ বন্ধন'। মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলনের বিষয়বস্তুকে সামনে রেখে নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি অস্ট্রেলিয়ানদের চিত্রাঙ্কন ছিল আরেকটি বিশেষ অর্জন।
উৎসবের দ্বিতীয় পর্বে বিকেল ৬টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়ে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আগে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন নিলুফার শায়লা সুহিন। শিশু-কিশোররাও এতে অংশগ্রহণ করে কবিতা আবৃত্তি, নাটক ও গান পরিবেশন করে।
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইরা পরিবেশন করেন দেশাত্ববোধক কবিতা, গান ও নাটিকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ফ্যাশন শো-তেও ফুটে উঠে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা। সব শেষে সুপার ব্যান্ড পরিবেশন করে বাংলাদেশের জনপ্রিয় সব গান।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন অল অ্যালামনাই ইভেন্টের আহ্বায়ক মোস্তফা আব্দুল্লাহ, অল অ্যালামনাই ইভেন্টের সহআহ্বায়ক ডা. এজাজ চৌধুরী, খালেদা কায়সার, কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরী, কাউন্সিলর সুমন সাহা, কাউন্সিলর সাজেদা আক্তার সানজিদা।
এ ছাড়া ছিলেন, নিউ সাউথ ওয়েলস প্রদেশের 'ইস্ট হিলস' আসনের মাননীয় এমপি ওয়েন্ডি এলিজাবেথ লিন্ডসে। তিনি তার শুভেচ্ছা বক্তৃতায় বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম বিরল ও কষ্টার্জিত বলে উল্লেখ করেন। এ ছাড়া তিনি সব বাংলাদেশিদের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানান।
স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীকে উদযাপন করতে সিডনিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাল্যামনাইদের সংগঠনগুলো একত্রিত হয় এই মাহেন্দ্রক্ষণকে স্মরণীয় করে রাখতে।
বিজয়ের এই উৎসবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (এইউএসটি), ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি), খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি), শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (সাস্ট)-এর প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অন্যান্য বাংলাদেশি ও দ্বিতীয় প্রজন্মের স্থানীয় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন (বিডি স্টুডেন্ট সোসাইটিস)।