৪৯ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের স্থায়ী কার্যালয়
অস্ট্রেলিয়া সরকার ১৯৮৪ সালের মে মাসে বাংলাদেশ হাইকমিশনের স্থায়ী কার্যালয় নির্মাণের জন্য দেশটির রাজধানী ক্যানবেরায় একটি জমি দেয়। সাত হাজার ৯৬০ বর্গমিটারের জমিটি লিজ হিসেবে শর্ত সাপেক্ষে ৯৯ বছরের জন্য দেওয়া হয়।
২০০৫ সালের ২০ নভেম্বর অস্ট্রেলিয়ার প্রথম অনলাইন বাংলা পত্রিকা 'বাসভূমি' অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের স্থায়ী ভবন নির্মাণ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
১৬ বছর আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, ভবন নির্মাণ বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও হাইকমিশনের মধ্যে বছরের পর বছর চিঠি লেখালেখির পরও কোনো অগ্রগতি না হলে লিজ দেওয়ার ২০ বছর পর ২০০৪ সালে অস্ট্রেলিয়া সরকার জমিটি ফেরত নেয়।
এই সময়ের মধ্যে জমির ট্যাক্স ও লিজের শর্তানুসারে অন্যান্য খরচ বাবদ 'ন্যাশনাল ক্যাপিটাল অথোরিটি'কে বাংলাদেশ সরকার পরিশোধ করেছে প্রায় চার লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা দুই কোটি চল্লিশ লাখ টাকা।
জমির ব্যবহার না করলেও এই পরিমাণ অর্থ খরচ করতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
২০১১ সালে নতুন করে আরেকটি জমি বরাদ্দ নেয় বাংলাদেশ হাইকমিশন। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশ বিভাগের আপত্তির প্রেক্ষিতে সেই জমিটিও ২০১৭ সালে ফেরত দিতে হয়।
পরিবেশ বিভাগের তথ্যানুযায়ী, ওই জমির ৪০ হাজার বর্গফুট এলাকা জুড়ে অস্ট্রেলিয়ার 'মথ' নামের এক বিরল প্রজাতির অভয়ারণ্য।
পরিবেশ বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওখানে ভবন নির্মাণ করলে ওই প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
হাইকমিশনের চ্যান্সারি ভবনের জন্য বর্তমানে আরেকটি জমি নেওয়া হয়েছে ক্যানবেরার ইয়ারালুমলা এলাকায়।
এ বছরের ২৮ জুলাই বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি ভবন নির্মাণ প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছে। প্রস্তাবিত ক্যানবেরায় বাংলাদেশ চ্যান্সারি ভবন প্রকল্পটির জন্য ১৪৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকার অনুমোদন দেন কমিটির চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
২০২৫ সালে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ সরকার।
অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরাতে ১৯৭২ সাল থেকে পথ চলা শুরু করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। দীর্ঘ ৪৯ বছর পর হাইকমিশনের নিজস্ব ভবন নির্মাণ হতে যাচ্ছে।
আকিদুল ইসলাম: অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী লেখক, সাংবাদিক