অকার্যকর ইডিএস মেশিন: বেবিচকের উদাসীনতায় রপ্তানিকারকদের ক্ষতি

By রেফায়েত উল্লাহ মীরধা, রাশিদুল হাসান

মহামারির সময়ে রপ্তানি পণ্যের অর্ডার পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। কিন্তু সহায়তার পরিবর্তে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ রপ্তানিকারকদের জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (এইচএসআইএ) থেকে আকাশ পথে দেশের বাইরে যেকোনো পণ্য পাঠাতে হলে তা এক্সপ্লোসিভ ডিটেকটিভ সিস্টেমের (ইডিএস) মাধ্যমে স্ক্যান করিয়ে নিতে হয়।

তবে বিমানবন্দরে ২০১৭ সালে স্থাপিত ২টি ইডিএস সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গত ১ বছরে ঠিকমতো কাজ করেনি বললেই চলে। এর পেছনে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকেই দায়ী করছেন রপ্তানিকারকরা।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) আরও ২টি ইডিএস স্থাপন করার পর ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও সেগুলোকে এখনো চালু করতে পারেনি।

ফলে, রপ্তানিকারকরা তাদের চালান পাঠানোর ক্ষেত্রে বড় ধরণের দীর্ঘসূত্রিতার মুখোমুখি হচ্ছেন। এ সমস্যা এমন এক সময় দেখা দিয়েছে যখন তাদের জন্য সময়মতো চালান পাঠানো অত্যন্ত জরুরি।

আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের অর্ডার বাতিল হয়ে যাওয়া অথবা ক্রেতাদের বড় আকারের মূল্য ছাড় দিতে বাধ্য হওয়ার হাত থেকে বাঁচতে রপ্তানিকারকরা উচ্চমাত্রার ফ্রেইট চার্জ দিয়ে অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে পণ্য পাঠাচ্ছেন।

মেশিন অকেজো থাকায় রপ্তানিকারকরা এখন বাধ্যতামূলক স্ক্যানিং ও সার্টিফিকেশনের জন্য ডগ স্কোয়াডের কুকুরের ওপর নির্ভর করছেন।

ডগ স্কোয়াড দৈনিক মাত্র ১১০ টন পণ্য স্ক্যান করতে পারে। কিন্তু বিমানবন্দরে রপ্তানি চালানের জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ১ হাজার ২০০ টন পণ্য আসছে।

যদি ২টি ইডিএস স্ক্যানিং মেশিন এবং ডগ স্কোয়াড পূর্ণোদ্দমে কাজ করে, তাহলে রপ্তানিকারকরা দৈনিক ৮০০ টন পণ্যের চালান বিদেশে পাঠাতে পারবেন।

সম্প্রতি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মাধ্যমে রপ্তানি হওয়া পণ্যের পরিমাণ অনেক বেড়েছে। কারণ আমদানিকারকরা তাদের খালি থাকা শেলফ পূর্ণ করার জন্য দ্রুত পণ্যের ডেলিভারি চাইছেন। এ ছাড়াও, কন্টেইনার সমস্যার কারণে সমুদ্রপথে অস্বাভাবিক উচ্চ ফ্রেইট চার্জ প্রযোজ্য হওয়ায় আকাশ পথে চালানের চাহিদা বেড়েছে।

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, 'বিমানবন্দরে অনেক ব্যাকলগ রয়েছে।'

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক নুরুল আমিন দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, ২টি ইডিএস মেশিনের একটিও ১০ অথবা ১২ দিনের বেশি কার্যকর ছিল না এবং এখন কেবল ডগ স্কোয়াড কাজ করছে।

তিনি জানান, তবে একটি ইডিএস স্ক্যানিং মেশিন গত সোমবার থেকে কাজ করা শুরু করেছে। বেবিচক আশ্বস্ত করেছে, বাকি ২টি মেশিন আজ থেকে কাজ করবে।

বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মুহাম্মদ মাফিদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মেশিন মেরামতের ক্ষেত্রে দেরী হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।

তিনি জানান, প্রতিটি ইডিএস মেশিনের দাম ১৭ কোটি টাকা এবং এগুলোর ওয়ারেন্টি গত বছর শেষ হয়েছে।

মেশিনগুলো সরবরাহ করেছে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নাভানা, যাদের ইডিএসের রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণা নেই।

'এ কারণেই মূলত দেরি হয়েছে। আমাদেরকে ইডিএস মেশিনের ত্রুটি সারাতে মালয়েশিয়া বা ভারত থেকে কারিগরি বিশেষজ্ঞ নিয়ে আসতে হয়েছে', বলেন মাফিদুর।

তিনি আরও যোগ করেন, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকায় বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আসাও বেশ ঝামেলাপূর্ণ ছিল। এ ছাড়া, মেশিন মেরামত করার জন্য বিদেশ থেকে খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানি করাও সম্ভব হয়নি।

অনুবাদ করেছেন মোহাম্মদ ইশতিয়াক খান