ক্রেডিট কার্ডে অনিয়ম: ন্যাশনাল ব্যাংককে ৫৫ লাখ টাকা জরিমানা
বাংলাদেশ ব্যাংক ১১ জন গ্রাহকের ঋণ সংক্রান্ত তথ্য গোপনের অভিযোগে ন্যাশনাল ব্যাংককে ৫৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। এ ধরনের প্রচেষ্টা দেশে প্রচলিত ব্যাংকিং আইনের ঘোরতর পরিপন্থী।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্ত থেকে জানা গেছে, উল্লেখিত ১১ জনের মধ্যে ৯ জনই ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদারের পরিবারের সদস্য। বাকি ২ জন সিকদার গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তা।
অভিযুক্তদের তালিকায় জয়নুল হক সিকদারের দুই ছেলে, রিক হক সিকদার ও রন হক সিকদারের নাম রয়েছে, যারা ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালক পদে আছেন।
ন্যাশনাল ব্যাংক এই ১১ ব্যক্তির ব্যবহার করা ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে নেওয়া ঋণ সংক্রান্ত তথ্য জমা দেয়নি।
জয়নুল হক সিকদারের নির্দেশে, ব্যাংকটি ১১ ব্যক্তিকে বৈদেশিক মুদ্রা খরচের নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি খরচ করার সুবিধা দিয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি জয়নুল হক সিকদার দুবাইয়ের এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, গ্রাহকের ঋণের তথ্য ঋণ তথ্য ব্যুরোর (সিআইবি) ডেটাবেইসে রিপোর্ট না করার অভিযোগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্ড প্রতি পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা ধার্য করেছে।
কর্মকর্তা আরও জানান, ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিসেম্বর ও চলতি মাসে এ জরিমানা আরোপ করেছে।
১১ জন ব্যক্তি আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার খরচ করেন (প্রায় ৯১ কোটি ৪০ লাখ টাকা), যেটি ব্যাংকিং আইনের বড় আকারের লঙ্ঘন।
২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে জয়নুল হক সিকদারের পরিবারের ৯ সদস্য এবং একই প্রতিষ্ঠানের ২ শীর্ষ কর্মকর্তা সম্মিলিতভাবে এই পরিমাণ টাকা খরচ করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন অনুযায়ী একজন বাংলাদেশি নাগরিক দেশের বাইরে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বার্ষিক সর্বোচ্চ ১২ হাজার ডলার খরচ করতে পারেন।
অর্থাৎ উল্লেখিত ব্যক্তিদের ৪ বছরে মোট ৬ লাখ ৬০ হাজার ডলার বা প্রায় ৫ কোটি ৬৬ লাখ করে খরচের সুবিধা পাওয়ার কথা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা মত প্রকাশ করেন, এই ব্যক্তিরা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার করার মতো অপরাধ করেছেন।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহমুদ হোসেনের সঙ্গে দ্য ডেইলি স্টার কয়েক দফা যোগাযোগ করলেও তিনি সাড়া দেননি।