গুদামে জায়গা নেই: বুড়িমারী স্থলবন্দরে পণ্যবাহী ট্রাকের জট
কাস্টমস গুদামে জায়গা না হওয়ায় পণ্য খালাসের জন্যে বুড়িমারী স্থলবন্দরে অপেক্ষা করছে ভারত থেকে আসা আমদানি পণ্যের শতাধিক ট্রাক। এতে স্থলবন্দরে সৃষ্টি হয়েছে যানজট।
এসব গাড়ি থেকে আমদানি পণ্য খালাস করার দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ না নেওয়ায় অসন্তোষ দেখা দিয়েছে আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
বুড়িমারী স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, গত এক সপ্তাহ ধরে ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণে ভুট্টা ও চাল আসছে। বন্দরে তিনটি গুদামের ধারণ ক্ষমতা ১ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন। গুদামগুলো পণ্য-ভর্তি হয়ে আছে। সে কারণে আমদানিকৃত চাল ও ভুট্টা গুদামে রাখা যাচ্ছে না।
ভারত থেকে চাল নিয়ে আসা ট্রাকচালক মনা দাস গতকাল সোমবার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গত দুদিন ধরে বুড়িমারী স্থলবন্দরে আটকে আছি। ট্রাক থেকে চালগুলো খালাস করা হচ্ছে না। সময় মতো খালাস করা না হলে সেগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে।'
ভারত থেকে ভুট্টা নিয়ে আসা ট্রাকচালক ভুতিরাম দাস ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এই ৪ দিন হলো বুড়িমারী স্থলবন্দরে আটকে আছি। ট্রাক থেকে পণ্য খালাস করা হচ্ছে না। ভারত থেকে পণ্য নিয়ে এসে বুড়িমারী স্থলবন্দরে এভাবে আটকে থাকায় ক্ষতির মুখে পড়েছি। দ্রুত পণ্য খালাসের আবেদন জানাই।'
বুড়িমারী স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী আবু সাঈদ নেওয়াজ নিশাত আজ মঙ্গলবার ডেইলি স্টারকে বলেন, 'যেহেতু কাস্টমস গুদামে জায়গার সংকট সেহেতু আমদানি করা চাল ও ভুট্টা আমাদের গুদামে খালাসের সুযোগ দিলে সুবিধা হতো। এতে স্থলবন্দরে আসা ট্রাকের জট কমতো।'
তিনি আরও বলেন, 'এখানে যানজটের কারণে অনেক আমদানি পণ্যবাহী ট্রাক ভারত থেকে আসতে পারছে না। আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।'
বুড়িমারী স্থলবন্দর ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রুহুল আমিন বাবুল ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বিষয়টি নিয়ে কাস্টমস ও বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।'
'ব্যবসায়ীরা সরকারকে ট্যাক্স-ভ্যাটসহ সব পাওনা পরিশোধ করার পর কাস্টমস ইয়ার্ড থেকে পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ে নিজস্ব গুদামে খালাস করবেন। বন্দর গেজেটেড এলাকার তিন কিলোমিটারে মধ্যেই ব্যবসায়ীদের নিজস্ব গুদাম থাকতে হবে। তারা নিজস্ব গুদামে শুধু আমদানিকৃত চাল ও ভুট্টা খালাস করতে পারবেন,' যোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, 'কর্তৃপক্ষ এ ধরনের ব্যবস্থা দ্রুত বাস্তবায়ন না করতে পারলে বুড়িমারী স্থলবন্দরে যানজট বাড়তেই থাকবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরকারের রাজস্ব আয় ব্যাহত হবে।'
বুড়িমারী স্থলবন্দরের কাস্টমস সহকারী কমিশনার কেফায়েত উল্ল্যাহ মজুমদার ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে। পণ্য খালাসে দেরি হওয়ায় বুড়িমারী স্থলবন্দরে আমদানি পণ্য নিয়ে আসা ট্রাকে যানজট হয়েছে। ফলে আমদানিকৃত পণ্য নিয়ে অনেক গাড়ি ভারত থেকে আসতে পারছে না।'
বুড়িমারী স্থলবন্দরে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক রুহুল আমীন ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমদানি করা চাল ও ভুট্টা খালাসের ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যেহেতু গুদামে জায়গা সংকট সেহেতু নিয়ম মেনে ব্যবসায়ীদের সুবিধা মতো আমদানি করা পণ্য খালাস করে বন্দরে ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখা হবে।'