দাম বাড়ার আগেই তেল মজুদ করেছে বিদ্যুৎকেন্দ্র, ফিলিং স্টেশন ও ডিলাররা
ডিজেল, কেরোসিন এবং ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ার আগেই একটি অসাধু চক্র বাংলাদেশে পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) বিভিন্ন বিপণন কোম্পানি থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল উত্তোলন করেছে। একদিনের ব্যবধানে প্রায় ২ হাজার টন ডিজেল বেশি বিক্রি হয়েছে গত বুধবার।
ডিজেল, কেরোসিন এবং ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ার সংবাদ আগে থেকেই পেয়ে মজুদ বাড়িয়েছে ফিলিং স্টেশন এবং ডিলাররা। পিছিয়ে নেই বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোও। তারাও দাম বাড়ছে আঁচ করতে পেরে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ করে রেখেছে।
বিপিসি'র কর্মকর্তারা জানান, দেশ বর্তমানে ডিজেল মজুদ আছে ৫ লাখ ২০ হাজার টন। কেরোসিন আছে ২২ হাজার টন। আর ফার্নেস অয়েল মজুদ রয়েছে ৬৬ হাজার টন। এসব জ্বালানি পণ্য দিয়ে ১ মাসেরও বেশি সময় দেশের আভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
তবে বিপিসি'র বিপণন বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র। গত মঙ্গলবার এবং বুধবার দেশের বিভিন্ন ডিপো থেকে জ্বালানি তেল বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বুধবার রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে ৩টি জ্বালানি পণ্যের দাম বাড়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু এর আগেই হঠাৎ করে বেড়ে যায় ৩টি জ্বালানি পণ্যের (ডিজেল, কেরোসিন এবং ফার্নেস অয়েল) বিক্রি।
হঠাৎ বিক্রি বাড়ার কারণ জানতে বিপিসি'র একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তেমন কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিপিসি'র ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'দুটি কারণে জ্বালানি তেলের বিক্রি বাড়তে পারে। এক. আগে থেকে সংবাদ পেয়েছে তেলের দাম বাড়ছে। দুই. বিপণন কোম্পানির কর্মকর্তাদের কারসাজি থাকতে পারে। তারা কম দামে এই ৩টি পণ্যের বেশি বিক্রি দেখিয়েছেন। এতে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হলো।'
সংশ্লিষ্টরা জানান, মঙ্গলবার বিপিসি'র নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন বিপণন কোম্পানির (পদ্মা, মেঘনা, যমুনা এবং এসএওসিএল) ডিপো থেকে কেরোসিন বিক্রি হয়েছে ৩৫০ টন, ডিজেল বিক্রি হয়েছে ১৪ হাজার টন এবং ফার্নেস অয়েলের বিক্রি ছিল ১ হাজার ৬০০ টন।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ঘোষণা আসার আগে অর্থাৎ বুধবার সকাল থেকে হঠাৎ করে ডিজেল, কেরোসিন এবং ফার্নেস অয়েলের বিক্রি বেড়ে যায়। বুধবার সারাদেশে ডিজেল বিক্রির পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার টন, কেরোসিন বিক্রি হয়েছে প্রায় ৫০০ টন এবং ফার্নেস অয়েল বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৪০০ টন।
শুধু একদিনের ব্যবধানে ডিজেলের বিক্রি বেড়েছে প্রায় ২ হাজার টন। কেরোসিনের বিক্রি বেড়েছে প্রায় ১৫০ টন এবং ফার্নেস অয়েলের বিক্রি বেড়েছে ৮০০ টন।
এ বিষয়ে বিপিসি'র চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ বলেন, 'জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির তথ্য পাচার হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টির গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়। কখন দাম বাড়ানো হবে, তা আমরাও সঠিক করে বলতে পারি না। আমরা মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করি মাত্র।'
বিক্রি বাড়ার পেছনে কোনো কারসাজি আছে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'বিষয়টি বিপণন বিভাগ দেখাশোনা করে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।'