মধ্যম আয়ে উত্তরণ: আরও ১২ বছর এলডিসি সুবিধা পাওয়ার আশা

By রেফায়েত উল্লাহ মীরধা

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরও বিনা শুল্কে রপ্তানি সুবিধা চালু থাকার ব্যাপারে বাংলাদেশ আশাবাদী। এই সুবিধার সময়সীমা বাড়াতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সঙ্গে আলোচনা চলছে।

বাংলাদেশের ২০২৪ সালে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উন্নীত হওয়ার কথা ছিল। জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি সংক্রান্ত কমিটি (ইউএনসিডিপি) নির্ধারণ করে কোন দেশ এই তালিকায় থাকবে। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে এই সময়সীমা পিছিয়ে ২০২৬ সালে নিয়েছে ইউএনসিডিপি।

বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, 'আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পরও এলডিসির শুল্ক সুবিধাগুলোকে আরও ১২ বছর বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছি।'

তিনি জানান, ডব্লিউটিও হয়তো ১২ বছর এই সুবিধা বাড়াবে না, কিন্তু এলডিসি থেকে উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে থাকা দেশগুলোকে শুল্ক সুবিধার সময় বাড়ানোর ব্যাপারে ইতিবাচক। এছাড়াও, সংস্থাটির প্রভাবশালী সদস্যরা ইতোমধ্যে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর উত্তরণের পরও তাদেরকে বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা দেওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছে।

করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট মন্দায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলো। এ কারণে শুল্ক সুবিধার সময় বাড়ানোর দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

ডব্লিউটিওর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এলডিসি তালিকার দেশগুলোতে মহামারির প্রথম ঢেউয়ে রপ্তানি আয় কমেছে ১০ শতাংশ। ফলশ্রুতিতে, দেশগুলো ডব্লিউটিওর বাণিজ্য সুবিধার সময়সীমা বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নেয়।

গত এপ্রিলে স্বল্পোন্নত, উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশের প্রতিনিধিরা সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। গত সপ্তাহে জেনেভায় ডব্লিউটিওর মন্ত্রী পর্যায়ের ১২তম সম্মেলনের প্রস্তুতিমূলক বৈঠকেও বিষয়টি আলোচিত হয়।

বাণিজ্য সচিব তপন কান্তিসহ বাণিজ্য, পররাষ্ট্র, পরিকল্পনা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তারা ওই বৈঠকে অংশ নেন। ডব্লিউটিও মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন চলবে ৩০ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এটিই বৈশ্বিক সংস্থাটির সর্বোচ্চ পর্যায়ের নীতিনির্ধারণী সম্মেলন। এই সম্মেলনে বাংলাদেশ শুল্ক সুবিধার সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তপন জানান, 'আমরা আশা করছি সম্মেলনে ডব্লিউটিওর সদস্যরা সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দেবে।'

আগামী জানুয়ারিতে অন্যান্য স্বল্পোন্নত দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশও তাদের বিভিন্ন দাবিগুলোকে অন্যান্য উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের সামনে উত্থাপন করবে।

সম্মেলনে এলডিসির অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাণিজ্য বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের কর্ম পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে।

ইউএনসিডিপির দ্বিতীয় ত্রি-বার্ষিক নিরীক্ষায় বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উন্নীত হওয়ার চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছে।

টানা দ্বিতীয়বারের মত বাংলাদেশ এলডিসি থেকে পরবর্তী পর্যায়ে উন্নীত হওয়ার তিনটি শর্ত পূরণ করেছে, যেগুলো হচ্ছে মাথাপিছু জাতীয় আয় (জিএনআই), হিউম্যান অ্যাসেটস ইনডেক্স (এইচএআই) এবং ইকোনমিক ভালনারেবিলিটি ইনডেক্স (ইভিআই)।

২০১৮ সালের মার্চে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এই তিনটি শর্ত পূরণ করে।

জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি স্বল্পোন্নত দেশকে অন্তত দুটি শর্ত পরপর দুটি নিরীক্ষায় পূরণ করতে হবে। প্রতি তিন বছর পর পর নিরীক্ষা করা হয়।

এই মুহূর্তে বাংলাদেশই একমাত্র স্বল্পোন্নত দেশ যেটি তিনটি শর্তই পূরণ করেছে।

উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হলে বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হবে। এ কারণে বাংলাদেশের জন্য লম্বা সময় ধরে শুল্ক সুবিধা পাওয়া অত্যন্ত জরুরি।

বাংলাদেশ ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে পাওয়া সুবিধাগুলো গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে আরও তিন বছর ধরে পেতে থাকবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশকে একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বিবেচনা করা শুরু করলে ইউরোপের বাজারে পণ্য রপ্তানিতে ১২ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে।

ইতোমধ্যে ভিয়েতনাম ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সই করেছে, যার ফলে বাংলাদেশের জন্য প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে।

প্রতিবেদনটি অনুবাদ করেছেন মোহাম্মদ ইশতিয়াক খান