মৌলভীবাজার-ত্রিপুরা সীমান্তে বর্ডার হাটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
বাংলাদেশের মৌলভীবাজারের কুরমাহাট এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কামালপুর সীমান্তে বর্ডার হাটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ত্রিপুরা রাজ্য সরকার আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব, ত্রিপুরা সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী মনোজ কান্তি দেব, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুস শহীদ বক্তব্য রাখেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি তার বক্তব্যে বলেন, বর্ডারহাট বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষের মধ্যে সম্পর্কের নতুন দিক খুলে দিয়েছে। এ হাট উভয় দেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ভারতের সীমান্ত এলাকার কুড়িগ্রাম, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং সুনামগঞ্জে ৪টি বর্ডারহাট চালু রয়েছে। উভয় দেশের সীমান্ত এলাকার মানুষ এর সুফল ভোগ করছেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবাষির্কী এবং দেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে বাংলাদেশের মৌলভীবাজারের কুরমাহাট এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কামালপুর সীমান্তে বর্ডারহাটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন একটি ঐতিহাসিক কাজ। ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় বর্ডারহাট স্থাপনের বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়।
টিপু মুনশি বলেন, বাংলাদেশের সাথে ভারতের উত্তরাঞ্চলে রপ্তানি বাণিজ্যের প্রচুর সম্ভাবনা রআছে। বাণিজ্য সুবিধা বৃদ্ধি করলে উভয় দেশ উপকৃত হবে।
তিনি বলেন, ভারতের উত্তরাঞ্চলের রাজ্যের সাথে কম খরচে বাণিজ্যের জন্য বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দর ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে উভয় দেশ উপকৃত হচ্ছে।
টিপু মুনশি বলেন, বাংলাদেশের সাথে ভারতের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বেশ ভালো। দশব ছর আগে ২০১০-২০১১ অর্থবছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ছিল ৫.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, গত ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। আমার বিশ্বাস বর্ডার হাটগুলো থেকে উভয় দেশের সীমান্ত এলাকার মানুষ নিজেদের শাকশব্জি, ফলমূল, মসলা, গামছা-লুঙ্গির মতো কাপড়, প্লাস্টিক পণ্য, মাছ, মেলামাইন পণ্য, মধু, তৈরি পোশাক, ক্রোকারি পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে করে উভয় দেশের মানুষের আন্তরিকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।