জীবন একটি অসাধারণ প্রাপ্তি: জুয়েল আইচ
নন্দিত জাদুশিল্পী, খ্যাতিমান বাঁশি বাদক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জুয়েল আইচের জন্মদিন আজ। একুশে পদকপ্রাপ্ত এই কীর্তিমান জন্মদিনে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন।
জীবন নিয়ে উপলব্ধি কী?
জীবন একটি অসাধারণ প্রাপ্তি, জীবন একটি উপহার। জীবনে সুখ আসবে, কষ্ট আসবে, দুঃখ আসবে, অনেককিছুই আসবে। তারপরও জীবন সুন্দর। জীবনের মানে হচ্ছে- জীবনের উপযুক্ত ব্যবহার। ঝড় আসুক, দুঃখ আসুক- যা আসুক না কেন জীবন আনন্দের। আমরা কেউ জানি না জীবন কখন ফুরিয়ে যাবে। সেজন্য জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগানো উচিত।
জীবনের এই সময়ে এসে কোনো অপূর্ণতা কাজ করে?
এটা থাকবেই। সব মানুষের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য। কারো পক্ষে পুরোটা গুছিয়ে আনা সম্ভব না। আমরা ফ্লাই নম্বর জানি না। সবকিছু গুছিয়ে আনা যায় না। কেউ যখন ফ্লাই করে তার ব্যাগের ওজন কখনো কখনো বেড়ে যায়। কিছু জিনিস তখন রেখে আসতে হয়। আবার কেউ যখন কোথাও যাবে সব জিনিস নেওয়া হয় না। কিছু ভুলে থেকে যায়। চাওয়া-পাওয়ার হিসেবটাও তাই। কিছু অপূর্ণতা থেকে যায়।
আপনার জীবনের স্মরণীয় কোনো ঘটনা জানতে চাই...
একটি ঘটনা খুব মনে পড়ছে। জাদুশিল্পী হিসেবে বাংলাদেশের সব জেলা ভ্রমণ করেছি। কোনো কোনো জেলায় ১০ বারও গিয়েছি। শুধু চট্টগ্রামে অন্তত ৫০ বার যাওয়া হয়েছে আমার। একবার রংপুরে যাচ্ছিলাম। সৈয়দপুরের ফ্লাইট ধরতে হবে। ১০-১২ জনের একটা টিম ছিল। যার যার টিকিটি নিয়ে গেছে। আমি আমার মতো যাচ্ছি। এয়ারপোর্ট যাওয়ার সময় রাস্তায় অনেক ছাত্রের সঙ্গে দেখা হয়ে যায়। ওরা আমাকে পেয়ে ভীষণ খুশি। ওদের দাবি অটোগ্রাফ দিয়ে যেতে হবে। কেউ কেউ খাতা বের করে দিয়েছিল। কেউ আবার শাটের ওপর অটোগ্রাফ চাইছিল। একজন ছাত্র হাতের তালুতে অটোগ্রাফ না নিয়ে যাবেই না। এভাবে অনেক সময় কেটে যায়। আমি ওদের বার বার বলছিলাম, ফ্লাইট মিস হবে। ওরা মজা করে বলেছিল, আমরা বিমান জাপটে ধরব। সব অটোগ্রাফ শেষ করে যখন এয়ারপোর্টে পৌঁছাই, তখন বিমান ছেড়ে দিয়েছে। আমি তো অবাক? কী হবে এখন? শো করব কেমন করে? শেষে একটি লোকাল বাসে উঠে পড়ি। সারারাত কষ্ট করে রংপুরে পৌঁছাই। এই ঘটনাটি একই সঙ্গে হাসির আবার বেদনার।
জন্মদিন কীভাবে কাটছে?
আনুষ্ঠানিকতা নেই, সাধারণভাবেই কাটছে। প্রচুর ফোন পাচ্ছি। অসংখ্য মানুষ শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। কেউ কেউ আমাকে নিয়ে সুন্দর সুন্দর লেখা লিখছেন। সব মিলিয়ে আমি মুগ্ধ। সবার ভালোবাসায় সত্যি মুগ্ধ।