অভিনয়শিল্পীর অবসর বলে কিছু নেই: আজিজুল হাকিম

শাহ আলম সাজু
শাহ আলম সাজু

দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত আজিজুল হাকিম। আসছে ঈদে তার অভিনীত গলুই সিনেমা মুক্তি পেতে যাচ্ছে আসছে। এ ছাড়া, একাধিক ধারাবাহিক নাটকের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত আছেন এই অভিনেতা।

বর্তমান ব্যস্ততা ও নানা বিষয় নিয়ে আজ সকালে মুঠোফোনে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেন আজিজুল হাকিম।

একসময় টেলিভিশন নাটকে নায়ক বা প্রধান চরিত্রে আপনাকে দেখা যেত। বর্তমানে যেসব চরিত্র পাচ্ছেন তা নিয়ে আপনি কতটা সন্তুষ্ট?

অবশ্যই তৃপ্ত। ভালোবাসা আছে বলেই তো অভিনয় করে যাচ্ছি। অভিনয়শিল্পীর বয়স বলে কিছু নেই। অভিনয়শিল্পীর অবসর বলে কিছু নেই। তরুণ বয়সে নায়ক চরিত্র করেছি, নানা রকম চরিত্র করেছি। বিভিন্ন চরিত্রে এক্সপেরিমেন্ট করার সুযোগ অনেক আগেই হয়েছে। সময়ের সঙ্গে মানুষের বয়স বাড়ে, আমারও বেড়েছে। মানুষের পরিবর্তন প্রাকৃতিক পরিবর্তন। খাপ খাইয়ে নিতে হয় সবকিছুর সঙ্গে। এ বয়সে এসে আমার বয়স অনুযায়ী চরিত্র পাচ্ছি এবং অভিনয়ও করছি। আমার কোনো  সমস্যা হচ্ছে না।

দীর্ঘ দিন পর আপনার অভিনীত সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে। সিনেমাটি নিয়ে কিছু বলুন...

এসএ হক অলিক পরিচালিত 'গলুই' সিনেমাটি এবারের ঈদে মুক্তি পাচ্ছে। প্রচারণাও শুরু হয়েছে এবং একদিন আগে টিজার প্রকাশিত হয়েছে। এই সিনেমায় আমি শাকিব খানের চাচার চরিত্রে অভিনয় করেছি। দর্শকরা আমাকে দেখবেন প্রেমে পাগল মানুষ হিসেবে। চরিত্রটি আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। দর্শকদের বলব- 'গলুই' সিনেমাটি হলে গিয়ে দেখুন, নিরাশ হবেন না।

আপনার অভিনয় জীবন শুরু হয়েছিল মঞ্চ নাটক দিয়ে। এখনো কি মঞ্চে অভিনয় করছেন?

প্রথম মঞ্চে অভিনয় শুরু করি আরণ্যকের হয়ে 'ওরা কদম আলী' নাটক দিয়ে। তারপর অনেক বছর কেটে গেছে। টেলিভিশন নাটকের জন্য একসময় মঞ্চে অনিয়মিত হয়ে পড়ি। দীর্ঘ বিরতির পর শিল্পকলা একাডেমির একটি মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেছি। মাসুম রেজার রচনা ও পরিচালনায় এই নাটকটির নাম 'জনকের অনন্ত যাত্রা'। এটা ছাড়াও মাসুম রেজার আরেকটি নাটকে অভিনয় করেছি।

বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?

অভিনয় নিয়েই ব্যস্ত আছি। 'করিম এন্ড সন্স' নামের নতুন একটি ধারাবাহিক নাটকের শুটিং করছি পূবাইলে। নাটকটির নাট্যকার বৃন্দাবন দাশ। পরিচালনা করছেন সকাল আহমেদ। বাড়ির বড় ছেলের চরিত্রটি আমি করছি। এ ছাড়া, বকুলপুর নামের আরও একটি দীর্ঘ ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করছি। এ ছাড়াও, 'মনকাব্য' নামে আরেকটি নাটক করছি।

অসুস্থতাজনিত কারণে দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। জীবন নিয়ে আপনার উপলব্ধি কী?

মানুষ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পৃথিবীতে আসে। আবার সময় শেষ হলে চলেও যায়। কখন কে চলে যাবে কেউ জানে না। আমার জীবনের দর্শন হচ্ছে মানুষের উপকারের চেষ্টা করা। আর উপকার না করতে পারলেও আমার দ্বারা কারো কোনো ক্ষতি হবে না। মানুষের কল্যাণে একটু হলেও কাজ করব। জীবন নিয়ে উপলব্ধি হচ্ছে- আমি যখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলাম তখন চেনা-অচেনা অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। অসংখ্য মানুষের দোয়া পেয়েছি। এটা তো বড় ঘটনা। তাদের ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারব না।

আপনার প্রথম কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

আমি যখন মঞ্চ নাটক শুরু করি তখন সেখান থেকে টাকা পাওয়ার কোনো বিষয় ছিল না। আমার এখনো মনে পড়ে চাঁদপুরে মঞ্চ নাটক করে ৫০ টাকা পেয়েছিলাম। সত্যিকারের পেশাদার শিল্পী হিসেবে অভিনয় করে আয় করতে শুরু করি প্যাকেজ নাটক আসার পর। এর আগে, ১৯৮১ সালে টেলিভিশন থেকে প্রথম চেক পেয়েছিলাম ১৬৯ টাকার। সে বছর বিটিভিতে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর অভিনেতা আফজাল হোসেন নতুন তালিকাভুক্ত শিল্পীদের নিয়ে একটি অনুষ্ঠান করেছিলেন। অনুষ্ঠানটির নাম ছিল 'পরিচিতি'। তার জন্য টাকাটা পেয়েছিলাম।