‘জন্মদিনে কানাডা থেকে মেয়ে এসে সারপ্রাইজ দিয়েছে’
দেশের অন্যতম জনপ্রিয় মডেল নোবেলের জন্মদিন ছিল গতকাল। মডেলিং ছাড়াও টিভি নাটক করেছেন। বাংলাদেশের প্রথম প্যাকেজ নাটকের অভিনেতাও তিনি।
দর্শক নন্দিত মডেল ও অভিনেতা নোবেল আজ মঙ্গলবার কথা বলেছেন দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে।
গতকাল আপনার জন্মদিন ছিল। বিশেষ দিনটিতে কোনো সারপ্রাইজ ছিল কি?
সারপ্রাইজ ছিল। আমার মেয়ে কানাডায় পড়ালেখা করছে। জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল ভোরে মেয়ে দেশে এসেছে। এটা আমার জন্য বড় সারপ্রাইজ। হুট করে জন্মদিন উপলক্ষে মেয়ে ছুটে এসে আমাকে সারপ্রাইজ দিয়েছে। আমিও বাসায় স্ত্রীসহ সবাইকে সারপ্রাইজ দিয়েছি। বাসায় কাউকে বলিনি মেয়ে আসছে। সকালবেলা মেয়েকে এয়ারপোর্ট থেকে রিসিভ করে বাসায় নিয়ে গেছি। মেয়েকে দেখার পর তার মা রীতিমতো কেঁদে দিয়েছে খুশিতে। বাসার সবাই এতটা খুশি হয়েছে যা বলে বোঝাতে পারব না।
আরেকটি সারপ্রাইজের কথা বলি। আমার অফিস কলিগদের অনেকে রাত ১২টা ১ মিনিটে বাসায় চলে এসেছিলেন। কেক ও ফুল নিয়ে তারা উপস্থিত। কোনো কোনো কলিগের স্ত্রী-সন্তানরাও এসেছিল। বিয়ে বাড়ির গাড়ি বহরের মতো করে তারা এসেছিলেন। এটাও আমাকে মুগ্ধ করেছে ভীষণ। আরও মজার ব্যাপার হলো বাসার সামনে এত মানুষ দেখে পুলিশ চলে এসেছিল। পরে আমাকে দেখে এবং জন্মদিনের কথা জেনে তারাও উইশ করেছেন। সেলফি তুলেছেন। আমার জন্মদিনে এটা বড় সেলিব্রেশন। আমি খুব আনন্দ পেয়েছি।
এখনও দেশের শীর্ষ মডেল হিসেবে আপনার নাম আসে। কীভাবে দেখেন বিষয়টি?
এটা আমার ভাগ্য, মানুষের ভালোবাসা, সৃষ্টিকর্তার আশীর্বাদ। সব সময় নিজেকে মডেলিং জগতের একজন মনে করি। কাজটি যেন ভালো হয় সেই চেষ্টা করি। ভালো একটি বিজ্ঞাপন করার জন্য কোনো ছাড় দেই না। কাজ কম করি, কিন্তু সেরাটা করার চেষ্টা করি।
কিছুদিন আগে তিনটি বিজ্ঞাপন করেছি অমিতাভ রেজার পরিচালনায়। খুব ভালো কাজ হয়েছে। দর্শকরা সুন্দরভাবে নিচ্ছেন কাজগুলো। বেশ বিরতি দিয়ে বিজ্ঞাপনের কাজ করেছি। তৃপ্তির বিষয় হচ্ছে কাজগুলো গ্রহণ করেছেন দর্শকরা।
টেলিভিশন নাটকে চাহিদা থাকার পরও আপনার উপস্থিতি কম কেন?
আমি কিন্তু নিজেকে নাটকের শিল্পী নয়, মডেলিংয়ের একজন মনে করি। এটা ঠিক যে নাটক করেছি। পরিচালকদের ভালোবাসা থেকে করেছি। আবার দর্শকদের কথাও ভেবেছি। এখনও আমার কাছে প্রতিনিয়ত নাটকের অফার আসে। আমি বিনয়ের সঙ্গে না করে দেই। করবো না তা নয়। খুব ভালো গল্প হলে করবো, কিন্তু সংখ্যায় অল্প।
সুন্দর জীবন যাপনের জন্য কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখেন?
জীবন একটাই। জীবন খুব ছোট, কিন্তু ভীষণ সুন্দর। জীবনকে সুন্দর করার জন্য শৃঙ্খলা প্রয়োজন। নিয়ম কানুন মেনে চলা প্রয়োজন। পরিবারকে সময় দেওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য সচেতনতার প্রয়োজন। ভালো বন্ধুর প্রয়োজন। কাজ তো থাকবেই। কাজের পাশাপাশি এসবও দরকার। সবকিছুর মধ্যে নিজের আত্মাকে ঠিক রাখতে হবে। এভাবেই জীবনযাপন করতে ভালোবাসি। আরেকটি বিষয় মাথায় রাখি, আপনজনদের কথা মনে রাখা। সুখে-দুঃখে তাদের পাশে থাকাটাও জরুরি।
আপনার জীবনের বড় অর্জন কী?
মানুষের ভালোবাসা। কোথাও গেলে বুঝতে পারি মানুষ কতটা ভালোবাসেন আমাকে। দেশে কিংবা বিদেশে সবখানেই মানুষের ভালোবাসা পাই। যে কোনো তারকা বা শিল্পীর জন্য এটা বড় পাওয়া। ভক্তরা প্রায়ই বলেন অভিনয় কম করি কেন? এই প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি শুনতে হয়। ভালো লাগে কথাটি। ভক্তরা আমাকে মিস করেন বুঝতে পারি। আমিও ভক্তদের সম্মান করি এবং ভালোবাসি।
বাংলাদেশের প্রথম প্যাকেজ নাটকের অভিনেতা আপনি। বিষয়টি কেমন লাগে?
ভালো লাগে, খুবই ভালো লাগে। যখন এই উদাহরণটি দেওয়া হয় সত্যি অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে। প্রথমত কাজটি ভালো ছিল। দ্বিতীয়ত কাজটি ছিল প্যাকেজ শুরুর প্রথম নাটক। সব মিলিয়ে অবশ্যই আনন্দের ঘটনা আমার জীবনে।