‘বিচ্ছু’ ছিল আমার অভিনয় জীবনের টার্নিং পয়েন্ট: জাহিদ হাসান

শাহ আলম সাজু
শাহ আলম সাজু

দর্শকপ্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসান ৩ বার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। নাটক ও সিনেমা—দুই মাধ্যমেই সরব তিনি। নিজের জীবনবোধ ও কর্ম নিয়ে সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেন এই অভিনেতা।

আপনি যেকোনো চরিত্রে সহজে মিশে যেতে পারেন, এর রহস্য কী?

জাহিদ হাসান: যেকোনো চরিত্রে অভিনয়ের সময় ভাবি—আমি জাহিদ হাসান নই, একজন অভিনেতা। মূল কথা হচ্ছে একজন শিল্পী হিসেবে আমি নাটক বা সিনেমার চরিত্র হয়ে ওঠার চেষ্টা করি। যখন কোনো শিল্পী চরিত্র হয়ে ওঠার চেষ্টা করেন, তখনই কাজের প্রতি ভালোবাসা বেড়ে যায়। এটাই আমার রহস্য বলতে পারেন।

একজন অভিনেতা হিসেবে আপনার মূল শক্তি কী?

জাহিদ হাসান: সততা। অভিনয়ের প্রতি সারাজীবন সৎ থেকেছি। আমি পরিশ্রম করতে পছন্দ করি। নিজের কাজে কখনো ফাঁকি দিইনি। আমার মূল শক্তি এটাই। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে আমার ভেতরে সততার বিষয়টি ছিল, আজও আছে। কাজের প্রতি সৎ থাকলে সফলতা পাওয়া সম্ভব।

দর্শকের ভালোবাসাকে কীভাবে দেখেন?

জাহিদ হাসান: আমি আমার দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তারা আমাকে ভীষণ ভালোবাসেন তা আমি জানি। তাদের ভালোবাসা ছিল বলেই কাজের প্রতি অনুপ্রেরণা পেয়েছি। এখনো পাচ্ছি। সৃষ্টিকর্তার রহমত ছাড়া কিছু হয় না। সৃষ্টিকর্তার প্রতিও আমি অনেক কৃতজ্ঞ। শুটিংয়ের সময় ইউনিটে অনেকে থাকেন। তাদের প্রতিও আমি ঋণী। সবার ভালোবাসায় এই জাহিদ হাসান। জনপ্রিয়তাকে সম্মানের চোখে দেখি।

হুমায়ূন আহমেদের নাটক ও সিনেমায় একসময় নিয়মিত অভিনয় করেছেন। তার সম্পর্কে কিছু বলুন-

জাহিদ হাসান: হুমায়ুন আহমেদের নাটক মানেই ছিল সাড়া জাগানো কাজ। এ দেশে তার মতো জনপ্রিয় নাট্যকার কমই এসেছেন। তার সিনেমার ভাষাও একটু আলাদা ছিল। তার সঙ্গে অনেক কাজ করেছি। কখনো মান-অভিমানও হয়েছে। পরে আবার সব ঠিক হয়ে যেত। দর্শকের মনের ভাষা বুঝতেন তিনি। তার কথা কোনোদিনও ভুলব না।

জীবনকে কীভাবে উপলব্ধি করেন?

জাহিদ হাসান: জীবন একটি সীমাবদ্ধ সময়ের। আমি মনে করি জীবন খুব ছোট। এই সীমাবদ্ধ সময়ের মধ্যে ভালো কিছু কাজ করতে হবে। কারণ, মানুষ তার কর্মের মাধ্যমে বেঁচে থাকে। ভালো কাজ কখনো হারাবে না।

আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে কতটা সংগ্রাম করতে হয়েছে?

জাহিদ হাসান: অনেক…। আমার বাড়ি সিরাজগঞ্জ। অভিনয় করব বলেই ছাত্রজীবনে থিয়েটার শুরু করি। সিরাজগঞ্জে মঞ্চ নাটক করতাম। তারপর ঢাকায় আসি পড়ালেখা করতে। কিন্তু, অভিনয়ের স্বপ্ন থেকে সরে যাইনি। ঢাকায় এসেও থিয়েটার শুরু করি। আমাকে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। ভালো সুযোগের অপেক্ষা করতে হয়েছে।

একদিন নাট্যকেন্দ্রের হয়ে 'বিচ্ছু' নাটকে নাম ভূমিকায় অভিনয়ের সুযোগ আসে। 'বিচ্ছু' ছিল আমার অভিনয় জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। এই নাটকের পর আমাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

এরপর টেলিভিশন নাটকে অভিনয়ের ডাক আসে। ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে জীবনের গল্প।

একজন অভিনেতা হিসেবে নিজেকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

জাহিদ হাসান: নিজেকে মূল্যায়ন করা খুব কঠিন। দর্শক-সমালোচক-ভক্তরা সমালোচনা করবেন। আপনারা যারা সংবাদপত্রে কাজ করেন তারা মূল্যায়ন করবেন। আমি শুধু বলব—জীবনের বেশিরভাগ সময় অভিনয়ের সঙ্গে কাটাচ্ছি। বাকিটা জীবনও কাটাতে চাই। অভিনয়কে অনেক ভালোবাসি। অভিনেতা ছাড়া আর কিছুই হতে চাইনি।

শিল্পীর সামাজিক দায়বদ্ধতা কতটুকু?

জাহিদ হাসান: একজন শিল্পী কেবল তার নিজের না। তিনি পুরো দেশের, সবার। এ কারণে তার দায়বদ্ধতা অনেক। একজন শিল্পীকে লাখ লাখ মানুষ অনুসরণ করেন। তার কথার গুরুত্ব অনেক। আমার কথা বলতে পারি, আমি আমার দেশের প্রতি সব সময় দায়িত্বশীল। সবচেয়ে বড় কথা আমি দেশকে ভালোবাসি। দেশের মানুষকে ভালোবাসি। কখনো বিদেশে গিয়ে সেটেলড হতে চাইনি।

৪ অক্টোবর আপনার জন্মদিন, এবারের জন্মদিন নিয়ে পরিকল্পনা কী?

জাহিদ হাসান: করোনার কারণে অন্যরকমের পরিকল্পনা। বিশেষ দিনটিতে পরিবারকে সময় দেব।