‘মাহমুদ সাজ্জাদ ছিলেন নিপাট ভদ্রলাক’
গুণী অভিনেতা মাহমুদ সাজ্জাদ আজ না ফেরার দেশে চলে গেছেন। বিটিভির সকাল-সন্ধ্যা ধারাবাহিকে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তিনি। দেশের পুরনো নাটকের দল নাট্যচক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। টিভি নাটক, মঞ্চ ছাড়া সিনেমাতেও অভিনয় করেছিলেন তিনি। মাহমুদ সাজ্জাদকে নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের কাছে স্মৃতিচারণ করেছেন- রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তারিক আনাম খান।
রামেন্দু মজুমদার: সাংস্কৃতিক পরিবারের মানুষ ছিলেন মাহমুদ সাজ্জাদ। এটাই তার বড় পরিচয়। পরিমিত অভিনয় করতেন। কণ্ঠস্বর ভালো ছিল। সবচেয়ে বড় কথা একজন ভালো মানুষ ছিলেন। একজন ভালো মানুষকে হারালাম। আরেকটি বড় কথা তার কোনো শত্রু ছিল বলে মনে হয় না। অজাতশত্রু যাকে বলে। এমন হাসিমুখের মানুষের দেখা খুব কমই মিলেছে দীর্ঘ জীবনে। মঞ্চে ও টেলিভিশনে অভিনয়ের কারণে অনেক আগে থেকেই আমাদের পরিচয় ছিল। মঞ্চে তার অভিনীত ভদ্দরনোক নাটকটি দেখেছি। দুর্দান্ত অভিনয় করতেন মঞ্চে। মাহমুদ সাজ্জাদ ছিলেন নিপাট ভদ্রলোক।
নাসির উদ্দীন ইউসুফ: মাহমুদ সাজ্জাদ ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদে আমি খুব কষ্ট পেয়েছি। ষাটের দশকে তার আগমন সিনেমায় ও মঞ্চে। তার ভাই ম হামিদ আমার বন্ধু। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে আমি গিয়েছি, থেকেছি। মৃদুভাষী মানুষ ছিলেন। তার হাসিমাখা মুখ কখনো ভুলব না। মানুষ হিসেবে সজ্জন ছিলেন। বড় ভাই সুলভ সুন্দর আচরণ পেয়েছি সব সময়। দুঃখজনক ব্যাপার তিনি হঠাৎ চলে গেলেন।
মামুনুর রশীদ: পাকিস্তান আমল থেকে মাহমুদ সাজ্জাদের সঙ্গে আমার পরিচয়। এরকম মিষ্টি মুখের মানুষ কমই দেখেছি। মঞ্চে অসাধারণ অভিনয় করতেন। সিনেমার নায়ক ছিলেন। অভিনয়কে ভালোবাসতেন। তাই সরকারি চাকরি করলেও অভিনয় ছাড়েননি। আমার সঙ্গে মধুর সম্পর্ক ছিল তার। তার বিদায়ে আমাদের নাটকে বড় শূন্যতা তৈরি হলো। কী যে শুরু হলো... ইনামুল হক চলে গেলেন। তারপর কায়েস ও চৌধুরী ও শামীম ভিস্তির দু'দিন পর মাহমুদ সাজ্জাদও বিদায় নিলেন।
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন মাহমুদ সাজ্জাদকে চিনতাম। আমার সিনিয়র ছিলেন। ৫০ বছরেরও বেশি সময়ের সম্পর্ক আমাদের। তৎকালীন ইকবাল হলে থাকতেন তিনি। তখনই সিনেমার নায়ক হিসেবে পরিচিতি পান। খুব সুদর্শন ছিলেন। পরিপাটি থাকতেন সবসময়। মানুষ হিসেবে সজ্জন ও মিশুক ছিলেন। তার মধ্যে কোনো জটিলতা দেখিনি। বয়স তাকে ছুঁতে পারেনি, কাবু করতে পারেনি। শুধু অসুস্থ হওয়ার পর কাবু করতে পেরেছিল। এতো ভালো মানুষ, এতো বিনয় আর কারও মধ্যে দেখিনি। তারা ছিলেন ৫ ভাই। ভাইয়ে ভাইয়ে এতো মিল কোনো পরিবারে দেখিনি। আমরা একসঙ্গে অনেক নাটকে অভিনয় করেছি। বিটিভির সাড়া জাগানো নাটক সকাল-সন্ধ্যাতে আমার ভগ্নীপতির চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি।
তারিক আনাম খান: ভেরি স্যাড... চলে গেলেন মাহমুদ সাজ্জাদ ভাই। মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে। বিটিভিতে একসঙ্গে অনেক নাটক করেছি। আমার সিনিয়র ছিলেন। কিন্তু, কাজ করতে করতে বন্ধুর মতো হয়ে গিয়েছিলাম। কখনো তাকে বিরক্ত হতে দেখিনি। রাগ করতে দেখিনি। শুটিংয়ে সময়মতো উপস্থিত হতেন। গুণের শেষ ছিল না তার। গুলশান এভিনিউ ধারাবাহিকে আমরা ২ ভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। জীবনে কোনো কাজে তিনি ফেল করেননি। ন্যাচারাল অভিনয় যাকে বলে সেটাই করতেন।