‘সাতক্ষীরার প্রতিটি বাড়িতে সেদিন বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানো হয়েছিল’

By শাহ আলম সাজু

এ দেশের একজন গুণী অভিনেতা তারিক আনাম খান। একাধিকবার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। ১৯৭১ সালে তিনি গিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। দ্য ডেইলি স্টারকে তারিক আনাম খান শুনিয়েছেন বিজয়ের গল্প।

১৯৭১ সালের কথা ভুলি কেমন করে? সব মনে পড়ে। যতদিন বেঁচে থাকব মনে পড়বে। সেই সময় দল বেঁধে বিভিন্ন ক্যাম্পে যেতাম। বিভিন্ন ক্যাম্পে গিয়ে নাটক ও গান করে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস যোগাতাম। জীবনের অন্যরকম সময় পার করেছি ওই সময়টায়। আমি বলব জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় ছিল ওটা।

সেইসব দিনের কথা মনে হলেই জীবনের প্রথম যৌবনে ফিরে যাই।

আমি ছিলাম ৯ নম্বর সেক্টরে। বিজয়ের কিছুদিন আগে সাতক্ষীরা চলে আসি। সাতক্ষীরা কলেজের কাছে একটি ডাকবাংলোতে থাকতাম। বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম। ওখান থেকে খবর পাচ্ছিলাম পাকিস্তানি সৈন্যদের সময় বেশি দিন নেই। পরাজিত হবেই তারা।

263727323_7306166032742704_2144962356190148922_n.jpg
তারিক আনাম খান। ছবি: শেখ মেহেদী মোরশেদ/স্টার

বিজয়ের খবর পাওয়ার পর সে কি উত্তেজনা! সে কি আনন্দ আমাদের মাঝে! জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত হতে থাকে চারদিক। জয় বাংলা ধ্বনি আর উল্লাস। অবশ্য তখনো কিছু কিছু বিহারি ও রাজাকাররা ওঁৎ পেতে ছিল, কেউ পালিয়ে ছিল সাতক্ষীরার ওদিকটায়।

ওই অবস্থায় বিজয় উল্লাস শুরু হয়। বিকেলে যখন সাতক্ষীরা থেকে পাকিস্তানি সৈন্যদের আত্মসমর্পণের খবর শুনি, তখন আমাদের উল্লাস আরও বেড়ে যায়। এসএলআর দিয়ে গুলি করে কেউ কেউ উল্লাস করেছিলেন। আমরা জয় বাংলা স্লোগান দিতে শুরু করি।

ওই দিন সাতক্ষীরার যেখানে ছিলাম, বিজয়ের কথা শোনার পর প্রতিটি বাড়িতে পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা আমাদের চোখের সামনে উড়ছিল। কেউ কেউ আনন্দে কেঁদে ফিলেছিলাম।

১৬ ডিসেম্বরের পর আমরা রওনা দিয়েছিলাম খুলনার দিকে।

৫০ বছর আগে বিজয়ের কথা শোনার পর সাতক্ষীরার বাড়িতে বাড়িতে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ানোর সুন্দর দৃশ্য আজও চোখে ভাসে।