‘১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তি অন্যরূপে আসার চেষ্টা করছে’ 

শাহ আলম সাজু
শাহ আলম সাজু

রাইসুল ইসলাম আসাদ। একজন গেরিলা যোদ্ধা। টেলিভিশন-মঞ্চ ও সিনেমার গুণী অভিনয় শিল্পী। দীর্ঘ বিরতির পর তার অভিনীত নতুন সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে আগামী ৩ ডিসেম্বর। চলতি সময়ে ব্যস্ত আছেন বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকের শুটিং নিয়ে। দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার বর্তমান সময়ের ব্যস্ততা ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

আপনি একজন গেরিলা যোদ্বা, বিজয়ের মাস এলে কেমন লাগে?

যাদের হারিয়েছি তাদের কথা খুব বেশি করে মনে পড়ে বিজয়ের মাস এলে। আমরা যুদ্ধ করেছি। বিজয় এনেছি। বিজয় দেখেছি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। কিন্ত যারা শহীদ হয়েছেন তারা তো বিজয় দেখে যেতে পারেননি। স্বাধীন দেশ দেখে যেতে পারেননি। সেজন্য বিজয়ের মাসে শহীদদের কথা বেশি মনে পড়ে।

একজন মুক্তিযোদ্বা হিসেবে কোনো কষ্ট বা আফসোস কাজ করে?

অবশ্যই করে। মানুষের মুক্তি বলতে যা বোঝায় তা আসেনি। অর্থনৈতিক মুক্তি এসেছে। অনেক উন্নত হয়েছি আমরা অর্থনৈতিকভাবে। কিন্ত ধর্মান্ধতা এখনো আছে। ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তি এখনো রয়ে গেছে। তারা অন্যরূপে আসার চেষ্টা করছে। একজন মুক্তিযোদ্বা হিসেবে এবং এই দেশের একজন একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এটা আমাকে কষ্ট দেয়। আমাকে ভাবায়। এজন্য নিজে নিজে শহীদদের কাছে ক্ষমা চাই।

শ্যাম বেনেগালের পরিচালনায় বঙ্গবন্ধু বায়োপিকে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা শেয়ার করা যাবে?

এই সিনেমায় মওলানা ভাসানীর চরিত্রে অভিনয় করছি। সম্প্রতি ঢাকায় দুই দিন শুটিং করেছি। আর কিছু বলা বারণ। এটি একটি ঐতিহাসিক চরিত্র। অনেক প্রস্তুতি নিয়ে কাজটি করছি। আর কিছু বলতে চাই না।

গত দুই বছরে নতুন কোনো নাটকে দেখা না যাওয়ার কারণ কী?

কারণ একটাই কোভিডকাল। সবার আগে জীবন। বেঁচে থাকলে কাজ করা যাবে। এজন্যই অফার পাবার পরও নতুন কোনো নাটকে গত দুই বছরে অভিনয় করিনি। ঘরেই সময় কাটছে। মাঝে কিছুদিনের জন্য আমেরিকায় গিয়েছিলাম। প্রতিনিয়ত নাটকের অফার পাচ্ছি। বঙ্গবন্ধু বায়োপিক ছাড়া এই মুহূতে অন্য কোনো কাজ করার ইচ্ছে নেই।

৩ ডিসেম্বর আপনার অভিনীত নতুন একটি সিনেমা মুক্তি পেতে যাচ্ছে।

'মিশন এক্সট্রিম' সিনেমায় ছোট্ট একটি চরিত্রে অভিনয় করেছি। অতিথি চরিত্র বলা যায়। মানুষ প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমাটি দেখুক এটাই প্রত্যাশা। এই সিনেমাটি ছাড়া দীপংকর দীপনের পরিচালনায় 'অপারেশন সুন্দরবন' সিনেমায় কাজ করেছি।