ফ্রান্সের সর্বোচ্চ সম্মানে মনোনীত সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়
ফ্রান্সের সর্বোচ্চ সম্মান লেজিয়ঁ দ’নরে কম্যান্ডর পেতে চলেছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।
১৮০২ খৃষ্টাব্দে ফ্রান্সের সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট এই সম্মাননার প্রবর্তন করে গিয়েছেন। এরপর থেকে বিশ্বের গুণী শিল্পী-নির্মাতা-কুশীলবদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ফ্রান্সের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ কলকাতার বাড়িতে বসে সত্যজিৎ রায়ের অপু ফ্রান্সের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি পাওয়ার খবরটি জানতে পারেন। বিস্ময়কর ভাবেই কিছুক্ষণ নীরবও ছিলেন অভিনেতা। কারণ ত্রিশ বছর আগে তাঁরই গুরু সত্যজিৎ রায় ফ্রান্সের এই সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন।
সত্যজিৎ ছাড়াও পণ্ডিত রবি শঙ্কর, পরিচালক মৃণাল সেনও লেজিয়ঁ দ’নরে সম্মান পেয়েছিলেন যার যার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য। কিন্তু অভিনয়ের জন্য সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম ভারতীয় যিনি ফ্রান্সের সর্বশ্রেষ্ঠ এই পুরস্কারে মনোনীত হলেন।
ফ্রান্সের মানুষ, সরকার এবং সুশীল সমাজ সৌমিত্রকে বরাবর সম্মানের জায়গা দিয়েছে এসেছেন। এর আগে ফরাসি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় “অফিসিয়ে দেঁ জার এ মেঁত্রিয়ে” শিরোপা তুলে দিয়েছিল সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মাথায়।
এবার শীর্ষ সম্মান পেয়ে ভীষণ আবেগাপ্লুত বর্ষীয়ান অভিনেতা। তাঁর ভাষায়, বাঙালি অভিনেতা হিসেবে আমার কাজ যে আন্তর্জাতিকভাবে মানুষের মন ছুঁয়েছে সেটা আমার কাছে প্রাপ্তি। তিনি জানান, পদ্মশ্রী পদ্মভষূণের মতো মতো ফ্রান্সে এই সম্মানটি নাইট, অফিসার, কম্যান্ডর এ গ্র্যান্ড ক্রস এইসব ভগে বিভক্ত।
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় আরো বলেন, যে সময়ে ছবির কাজ শুরু করেছি তারও আগে থেকে আমি ফ্রান্সের শিল্প, সাহিত্যে মুগ্ধ ছিলাম আমি। সেই দেশের কবি শিল্পী চলচ্চিত্রকার, নির্মাতা এবং উপন্যাসিকদের শিল্পকর্মে কার্যত সেই সময় আমি ডুবেই থাকতাম। তাঁদের প্রতি বরাবরই আমার বিনম্র শ্রদ্ধা রয়েছে। এবার এই সম্মানে আমাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে কৃতজ্ঞও করেছে বৈকি।