বাঙালির সবচেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক উৎসব পহেলা বৈশাখ: রামেন্দু মজুমদার
বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ আজ। নববর্ষের প্রথম দিনে বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও গুণী নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার কথা বলেছেন দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে। পহেলা বৈশাখ ও সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেছেন দেশের থিয়েটার আন্দোলনের এই অগ্রপথিক।
নতুন বছরের প্রথম দিনটি নিয়ে আপনার অনুভূতি জানতে চাই। পহেলা বৈশাখে শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে?
বাঙালির সবচেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক উৎসব পহেলা বৈশাখ। বাঙালির সংস্কৃতির শক্তি নতুন করে আবিষ্কার করা যায় এই দিনে। এটি উৎসবমুখর দিন। সব মানুষ, সব ধর্ম, সবার জন্য সবার জন্য এই পহেলা বৈশাখ। দিনটি এলে ছেলেবেলার কথা মনে পড়ে। শৈশবের কথা খুব মনে পড়ে। পহেলা বৈশাখে মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়। সারাদেশে বৈশাখী মেলা হয়। এটা বাঙালি সংস্কৃতির অংশ। এ সবকিছু আমার মধ্যে আশা জাগায়। আমি আশাবাদী হয়ে উঠি।
মঙ্গল শোভাযাত্রার কথা বললেন। আপনার কাছে এ বিষয়টি কেমন?
এটা তো অশুভর বিরুদ্ধে শুভর যাত্রা। মঙ্গল শোভাযাত্রা আমাদের দেশে শুরু হয়েছিল আর্ট কলেজের ওখান থেকে। আস্তে আস্তে এটা ছড়িয়ে পড়ছে। আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। চারুকলার ছাত্র ও শিক্ষকরা এখন এটার নেতৃত্বে। এ শোভাযাত্রা ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐহিত্যের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। এটা বিরাট অর্জন।
এই সময়ে এসেও যে টিপ পরা নিয়ে কোনো নারীকে বিড়ম্বনায় ফেলার অভিযোগ আসে বা বিজ্ঞান শিক্ষককে কারাগারে যেতে হয়, এ বিষয়গুলোকে কীভাবে দেখছেন?
এসব আমাকে ভীষণ পীড়া দেয়। আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, আমরা কি আবার একই জায়গায় ফিরে আসছি? তাহলে কি আমরা বিজ্ঞান পড়ব না? বিজ্ঞান হচ্ছে প্রমাণ নির্ভর। ধর্ম হচ্ছে বিশ্বাস। ধর্মের সঙ্গে বিজ্ঞানের কোনো সংঘাত নেই। কীভাবে একজন শিক্ষকের নামে মিথ্যাচার করা হলো? আমি বলব, যারা অপরাধী, তাদের কঠোর শাস্তি হোক।