লাখ-কোটি ভিউ নিয়ে ভাবি না: ফাহমিদা নবী

শাহ আলম সাজু
শাহ আলম সাজু

ফাহমিদা নবী। একজন পরিপূর্ণ সংগীত শিল্পী। শিল্পী পরিবারে তার জন্ম। গান নিয়েই তার সব ব্যস্ততা। পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে সংগীত ও জীবনের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন ফাহমিদা নবী।

অনেকেই বলছেন এখন ভিউয়ের যুগ, আপনি কি এর সঙ্গে একমত?

সত্যি কথা বলতে কী, লাখ-কোটি ভিউ নিয়ে ভাবি না—এসব শেষ হয়ে যাবে। ভিউ নয়, গান টিকে থাকবে যদি সত্যিকারের ভালো গান হয়। এটা সময়ের গল্প হয়ত। সময়েই ফুরিয়ে যাবে। আমি ভালো গানে বিশ্বাসী। শুদ্ধ গানে বিশ্বাসী।

fahmida_nabi_2.jpg
ছবি: শেখ মেহেদী মোরশেদ/স্টার

কেউ কেউ গানকে কনটেন্ট বলছেন, আপনার বক্তব্য?

এটা দুঃখজনক। গান কখনো কনটেন্ট হতে পারে না। গান তো গানই। একটি ভালো গান মানুষকে কতোখানি আনন্দ দিতে পারে, তা বলে বুঝানো যাবে না। কেউ কেউ গানকে গান না বলে কনটেন্ট বলেন। দর্শক-শ্রোতারা কমেন্টে এমনটি লিখেন।

আমি অবাক হই। গান তো কনটেন্ট না। গান হচ্ছে গান, যা হৃদয়কে স্পর্শ করে যায়। গান, কবিতা, বই এসবকেও আজকাল কেউ কেউ কনটেন্ট বলছেন। মোটেও ঠিক নয়।

গান শোনা, বই পড়া, ছবি দেখা—এসব কি কখনো বন্ধ হয়ে যাবে?

না। গান শোনা কখনো বন্ধ হবে না। মানুষ কখনোই গান শোনা বন্ধ করবেন না। গান শুনবেন। ভালো গান মানুষ শুনবেনই। এ কথা আমি জোর দিয়ে বলতে পারি। নতুন নতুন গান আসবে। অনেক গান আসবে। কিন্তু, হৃদয় দিয়ে শোনার মতো গানই মানুষ হৃদয়ে ধরে রাখবে। ভালো গান মানুষ মগ্ন হয়ে শুনবে।

fahmida_nabi_3.jpg
ছবি: শেখ মেহেদী মোরশেদ/স্টার

নিরাশা বা হতাশা কখনো স্পর্শ করে?

না। আমি সব সময় আশাবাদী মানুষ। আমি আশায় বুক বাঁধি। আমি আশার আলো নিয়ে বাঁচি। সব সময় সুন্দর কিছু চিন্তা করি।

৪০ বছর ধরে গান করছেন, ক্লান্তি আসে?

না। মোটেই না। আমি ক্লান্তিতে বিশ্বাস করি না। চলমানে বিশ্বাসী। কাজে বিশ্বাসী। কয়েকদিন আগে লন্ডনে গানের অনুষ্ঠান করে গিয়েছিলাম। দেশে ফিরে পদ্মা সেতু নিয়ে গান করলাম। গান নিয়েই আছি। কর্মই হচ্ছে আসল বিষয়। আর কিছু না। পরিশ্রমই জীবনকে সমৃদ্ধ করে। তাই ক্লান্তি আমাকে ছুঁতে পারে না।

শিল্পচর্চা কেমন হওয়া উচিত?

শিল্পচর্চায় দৌড় চলে না। এটা পরিচর্যার বিষয়। এখানে দৌড়ঝাঁপ করে কিছু হবে না। সাধনা প্রয়োজন। সময় দেওয়া প্রয়োজন।

আপনার বাবা মাহমুদুন্নবীর গান এখনো শ্রোতাদের মন ছুঁয়ে যায়…

আমি যখনই স্টেজে উঠি বাবার একটি গান এবং আমার বোন সামিনা চৌধুরীর একটি গান অবশ্যই গাই। আমি আমার পরিবারকে ধরে রাখি। এটা করে যাব। বাবা বেঁচে থাকলে এ বছর তার ক্যারিয়ার হতো ৮০ বছরের। আমরা ২ বোন ৪০ বছর ধরে গান করছি। সম্প্রতি, লন্ডনের অনুষ্ঠানে হঠাৎ দেখি বাবার গান গাওয়া হচ্ছে—'তুমি কখন এসে দাঁড়িয়ে আছো…'। আবেগে চোখ ভিজে এসেছিল। বাবার গান এমনই।