সিনেমার মধ্য দিয়ে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে চাই: শতাব্দী ওয়াদুদ

শাহ আলম সাজু
শাহ আলম সাজু

'গেরিলা' সিনেমায় অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন অভিনেতা শতাব্দী ওয়াদুদ। গুণী এই অভিনেতা ২৫ বছর ধরে মঞ্চ নাটকের সঙ্গে জড়িত। প্রাচ্যনাটের অন্যতম সদস্য তিনি।

তার অভিনীত ৩টি সিনেমা নোনা জলের কাব্য, মিশন এক্সট্রিম ও চিরঞ্জীব মুজিব গত বছরের শেষ দিকে মুক্তি পেয়েছে। সম্প্রতি 'অসম্ভব' নামের নতুন একটি সিনেমার শুটিং শেষ করেছেন তিনি।

নিজের নতুন-পুরনো সিনেমা, অভিনয় নিয়ে স্বপ্ন, মঞ্চ নাটকসহ নানা বিষয় নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন শতাব্দী ওয়াদুদ।

সবশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ৩টি সিনেমায় কেমন সাড়া পেয়েছেন? কেমন লেগেছে?

এই সিনেমা ৩টি মুক্তির পর দর্শকদের কাছ থেকে, কাছের মানুষদের কাছ থেকে অনেক সাড়া পেয়েছি। অনেক ইতিবাচক কথা শুনেছি। ৩টি সিনেমা ৩ ধরনের গল্পের। মিশন এক্সট্রিম সিনেমায় দর্শকরা আমাকে গোয়েন্দা পুলিশের চরিত্রে দেখেছেন। নোনা জলের কাব্য সিনেমায় দর্শকরা আমাকে দেখেছেন জেলে পাড়ার জেলের চরিত্রে। এটি একেবারেই মানুষের হৃদয়ে দাগ কেটে যাওয়ার মতো সিনেমা। চিরঞ্জীব মুজিব জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জীবনের উপর নিমিত একটি সিনেমা। সেখানে অভিনয় করে ভীষণভাবে তৃপ্ত আমি।

সিনেমা নিয়ে আপনার স্বপ্ন ও প্রত্যাশা কী?  

পরবর্তী প্রজন্ম যেন আমার অভিনয় দেখে যেতে পারে, সেটা চাই। দেশের মানুষ যেন আমার অভিনয় মনে রাখেন, তেমন কিছু সিনেমায় অভিনয় করতে চাই। চ্যালেঞ্জ নেওয়া যাবে এমন সিনেমা করতে চাই। সিনেমার মধ্য দিয়ে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে চাই।অবশ্যই সেরা অভিনয়টা করতে চাই।

272619410_1290116534810340_3402394487212616619_n_0.jpg
শতাব্দী ওয়াদুদ। ছবি: শেখ মেহেদী মোরশেদ।

নতুন সিনেমায় অভিনয় করছেন। সেটি নিয়ে কিছু বলুন।

'অসম্ভব' নামের একটি সিনেমা করছি। এটি সরকারি অনুদানের সিনেমা। পরিচালনা করছেন অরুণা বিশ্বাস। নতুন ধরনের একটি চরিত্র করছি। আমার বিশ্বাস এই চরিত্রটি ও সিনেমাটি নতুন মাত্রা যোগ করবে।

মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা 'গেরিলা'য় অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ঘরে তুলেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা কতটা টানে?

আমাদের সবেচেয়ে গৌরবের ধন, সবচেয়ে বড় অহংকার মুক্তিযুদ্ধ। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধে করতে পারিনি তাদের জন্য মুক্তিযুদ্ধের সিনেমাই এক ধরনের মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা আরও বেশি বেশি নির্মাণ করা উচিত। তাহলে নতুন প্রজন্ম বেশি বেশি জানতে পারবে মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে।

আপনি এখনো মঞ্চে সরব।

মঞ্চ সবচেয়ে ভালোবাসার জায়গা। মঞ্চ ছেড়ে কোথাও কাজ করা সম্ভব নয়। প্রাচ্যনাট করার আগেও মঞ্চ নাটক করেছি। প্রাচ্যনাট করছি অনেক বছর ধরে। মঞ্চে কাজ করে যাব সবসময়। মঞ্চের ভালোবাসা আসলেই অন্যরকম।