‘তিস্তার প্যাটোত হামার বাস্তুভিটা চলি গ্যাইছে’

এস দিলীপ রায়
এস দিলীপ রায়

পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে লালমনিরহাটে তিস্তাপাড়ের অনেক স্থানে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিস্তার ভাঙনে হারিয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি ও ফলের বাগান। স্কুল-মাদ্রাসা, মসজিদ-মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থাপনাও চলে যাচ্ছে তিস্তার গর্ভে।

এদিকে, বসতভিটা ও আবাদি জমি হারিয়ে ভাঙনকবলিতরা ঘর-বাড়ি নিয়ে ছুটছেন নতুন আশ্রয়ের খোঁজে। অনেকের আশ্রয় মিলছে আত্মীয়-স্বজনের জমিতে, কেউ আশ্রয় নিচ্ছেন সরকারি রাস্তার ওপর, আবার কেউ কেউ একখণ্ড জমি কিনে তৈরি করছেন নতুন আশ্রয়।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না গ্রামের ভাঙনকবলিত জুলেখা বেওয়া (৫৮) বলেন, 'তিস্তা হামক ফকির করি দ্যাইল এ্যালা হামরা কোনটে যামো। তিস্তার প্যাটোত হামার বাস্তুভিটা চলি গ্যাইছে। সোকগুলা চাষের জমি খ্যায়া ফ্যালাইছে। এ্যারা আর হামার কিছু থাকিল না।'

তিনি আরও বলেস, 'হামরা ছওয়াগুলা কাই কুত্তি যাবার নাগছে তার কোন হদিস নাই। তিস্তা হামাক শ্যাষ করি দ্যাইল। হামার সাজানো সংসার ভাঙি দেইল। হামাকগুলাক ভাসে দ্যাইল।'

আদিতমারী উপজেলার চর গোর্বধানের বাসিন্দা হায়দার আলী (৬৩) বলেন, 'হামারগুলার আর বাঁচি থাকা আর না থাকা সমান হয়া গ্যাইছে। কয়দিন আগোত হামার বাড়ি আছিল, ঘর আছিল, সংসার আছিল আর আছিল আবাদি জমি ও ফলের বাগান। এ্যালা আর হামার কিছুই নাই। সোকগুলাই এ্যালা তিস্তার প্যাটোত। ঘর কোনা কোনো মতে বাঁচায় নদীর কিনারোত থুইছোং। এ্যালা যে পরিবার নিয় কোনটে যাইম কাইও জানে না। কাই হামাগুলাক ঠাঁয় দিবে।'

লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, তিস্তার পানি কমে যাওয়ায় লালমনিরহাটের সদর, আদিতমারী, হাতীবান্ধা ও কালীগঞ্জ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ২০টি গ্রামে ও কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও উলিপুর উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ১০টি গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এসব গ্রামে তিস্তা নদীর ভাঙনে একের পর এক বসতভিটা, আবাদি জমি, ফলের বাগানসহ নানা স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'তিস্তার কমে যাওয়ায় তিস্তাপাড়ের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন কোথাও কোথাও তীব্র আকার ধারণ করছে। ঝূঁকিপূর্ণ স্থানে বালুভর্তি জিও ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ চলছে।'