‘হামরা রিকশা নিয়া বসি থাকি, কিন্তু প্যাসেঞ্জার পাই না’
শুক্রবার বিকেলে লালমনিরহাট শহরের উত্তরা সিনেমা রোডে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন রিকশাচালক আজিবর রহমান (৪০)। প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর কোনো যাত্রীও না পেয়ে হতাশ তিনি। তার মতো হতাশ আরেক রিকশাচালক মহুবর রহমান (৪৬)। তারা দু’জনই লালমনিরহাট শহরের শহীদ শাহজাহান কলোনির বাসিন্দা। থাকেন সরকারি খাস জমিতে। রিকশা চালিয়ে যা আয় করেন তাই দিয়ে সংসার চলে।
করোনার সংক্রমণ রোধে দেশব্যাপী চলমান লকডাউনে রিকশা চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ নেই। কিন্তু, শহরে যাত্রী না থাকায় তাদের আয় আগের তুলনায় অনেক কমেছে।
আজিবর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, লকডাউনের আগে প্রতিদিন ৪০০-৫০০ টাকা আয় হতো। কিন্তু, লকডাউনে আয় কমে ১৫০-২০০ টাকা হয়েছে। আগের মতোই সকালে রিকশা নিয়ে বের হন, আর ফেরেন রাতে। রিকশা চালিয়ে পাঁচ জনের সংসার চালাতে হয়। কিন্তু, এখন আয় কমে যাওয়ায় সংসার চালাতে কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘টাউনের দোকানপাট বন্ধ। বাইরোত থাকি কোনো মানুষ আইসনা। টাউনোত কোনো প্যাসেঞ্জার নাই। ওষুধ নয়তোবা দরকারি জিনিস কিইনবার জন্যে কয়েকটা মানুষ আইসো। হামরা রিকশা নিয়া বসি থাকি, কিন্তু প্যাসেঞ্জার আর পাই না। তাঙ ভালো হামাক রিকশা চালবার দিবার নাইগছে। না হইলে তো না খেয়া থাকা নাগিল হয়।’
রিকশাচালক মহুবর রহমান জানান, মানুষ বাইরে এলেই তাদের বেশি যাত্রী হয়। লকডাউনের কারণে মানুষ তেমন বাইরে বের হচ্ছে না। ওষুধ আর নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্যের দোকান ছাড়া সবকিছুই বন্ধ।
তিনি বলেন, ‘এ্যালা যেইকনা কামাই করবার নাগছি তাকে দিয়া কোনোমতে সংসার চালবার নাগছি। টাউনতো কোনো গ্যানজাম নাই। আরামোত রিকশা চালবার পাবা নাগছি। এ্যালা বেশিভাগ একজন করি প্যাসেঞ্জার নিয়া রিকশা চালাই। মুখোত মাস না থাইকলে তাক রিকশাকে তুলোং না।’
লালমনিরহাট শহরের মিশন মোড় এলাকায় রিকশাচালক নজরুল ইসলাম জানানা, আয় আগের তুলনায় কমেছে। কিন্তু, তারা তো রিকশা চালানোর সুযোগ পাচ্ছেন। লকডাউনে রিকশা চালার সুযোগ না পেলে তাদেরকে সংসার চালাতে ধার দেনা করতে হতো।
তিনি বলেন, ‘হামরা মুখোত মাসটাস দিয়া রিকশা চালাই। এ্যালা বেশি ভাড়া মাইরবার নাগছি হাসপাতাল, ওষুধের দোকান আর কাঁচাবাজারে।’
লালমনিরহাট পৌরসভা রিকশাচালক সমিতির নেতা দেলোয়ার হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘পৌর এলাকায় প্রায় আটশ রিকশা আছে। জেলায় কী পরিমাণ রিকশা আছে তার তথ্য নেই। তবে, পুরো জেলায় প্রায় ২০ হাজার রিকশা তো