অস্ত্রোপচারের সময় নবজাতকের কপাল কেটে যায়, কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা
ফরিদপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সময় নবজাতকের কপাল কেটে ফেলার ঘটনায় ১ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণের মামলা করা হয়েছে।
আজ বুধবার ফরিদপুরের যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে এ মামলাটি করেন নবজাতকের বাবা রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার মো. শফি খান।
গত ১৫ জানুয়ারি শহরের আল মদিনা প্রাইভেট হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
মামলায় আল মদিনা প্রাইভেট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাকারিয়া মোল্লা ওরফে পলাশ, ব্যবস্থাপক মো. আল হেলাল মোল্লা ওরফে টগর ও মো. গোলাম কিবরিয়া, চেয়ারম্যান রহিমা রহমান এবং হাসপাতালের দুই কর্মচারি চায়না আক্তার ও মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান ওরফে সবুজকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ও ফরিদপুরের জেলা প্রশাসককে মোকাবিলা বিবাদী করে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে মোট ৮ জনকে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মানিক মজুমদার বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন দিয়েছেন এবং মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন আগামী ৩ মার্চ।
মামলার এজাহারে বলা হয়, প্রসবকালীন সময়ে হাসপাতালে কর্তব্যরত কোনো চিকিৎসক ছিলেন না, কোনো প্রশিক্ষিত এবং দক্ষ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ কেউ ওখানে ছিলেন না। প্রসবের সময় ধারলো অস্ত্রের আঘাতে নবজাতকের বাম কপালে তিন ইঞ্চির মতো ক্ষতের সৃষ্টি হয় এবং প্রসূতির শরীরে জখম হয়, আজীবন ওই খত তাদের বহন করতে হবে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ভুল চিকিৎসার কারণে এবং সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসকের ওপর যথাযথ দায়িত্ব কর্তব্য এবং অর্পিত দায়িত্ব পালনে অবহেলার মাধ্যমে ভুল চিকিৎসার সুযোগ পেয়ে এবং ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা ব্যয় ২ লাখ টাকার বেশি হয়েছে এবং আরও ব্যয়ভার বহন করতে হবে।
এর আগে নবজাতকের বাবা বাদী হয়ে গত ১৬ জানুয়ারি ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় আরেকটি মামলা করেন। ওই মামলায় মদিনা প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়গনস্টিক সেন্টারের চেয়ারম্যান রহিমা রহমান, তার দুই ছেলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাকারিয়া মোল্লা, পরিচালক মো. আল হেলাল মোল্লা এবং ওই হাসপাতালের কর্মী চায়না বেগমকে আসামি করা হয়।
ওই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকারিয়া মোল্লার বোন আসমা বেগম বলেন, ক্ষতিপূরণের মামলার ব্যাপারে তিনি বা তার পরিবার কিছু জানে না।
আল মদিনা প্রাইভেট হাসপাতাল এন্ড ডায়গনিস্টিক সেন্টার স্থাপিত হয় ২০০৭ সালে। গত ২০১৫ সাল থেকে এ হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি।
গত ১৬ জানুয়ারি থেকে ওই হাসপাতালের কার্যক্রম সিভিল সার্জেনের নির্দেশে বন্ধ রয়েছে।