অ্যাম্বুলেন্সে শিশুর মৃত্যু: হাতাহাতি করা মাইক্রোবাস চালক গ্রেপ্তার
সাভারের আশুলিয়ায় ২ চালকের হাতাহাতির সময় অ্যাম্বুলেন্সে থাকা ক্যান্সার আক্রান্ত শিশু আফসানার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রধান আসামি মাইক্রোবাস চালক নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাভারের সিঅ্যান্ডবি এলাকা থেকে নজরুলকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সামিউল ইসলাম।
সামিউল বলেন, 'গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে শিশু আফসানাকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর মহাসড়ক হয়ে গাইবান্ধার দিকে যাচ্ছিল। এ সময় পেছনে থাকা একটি মাইক্রোবাস অ্যাম্বুলেন্সের সামনে এসে গতিরোধ করে। সে সময় মাইক্রোবাসের চালক নজরুল ইসলাম নেমে গিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের চালক ও সহকারীকে মারধর করেন। এক পর্যায়ে আরও কয়েকজন সহযোগীকে ডেকে আনেন নজরুল। তারা গিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের চাবি কেড়ে নেন। তখন অ্যাম্বুলেন্সেই বাবার কোলে মারা যায় শিশু আফসানা। এই ঘটনার পর গতকাল রাতে আফসানার বাবা আলম মিয়া বাদী হয়ে মাইক্রোবাসের চালক নজরুল ইসলামসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।'
সামিউল বলেন, 'আজ সন্ধ্যায় মামলার প্রধান আসামি মাইক্রোবাসের চালক নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নজরুল ঘটনাটি ঘটিয়েছে এবং সেই মূল হোতা।'
গতকাল রাতে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত হানিফ খান (৪০) ও ইমরান (২৫) নামের ২ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের দুজনকে ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আজ ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজেট্রেট কোর্টে পাঠানো হলে আদালত দুজনকে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলেন জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
এসআই সামিউল আরও জানান, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
শিশু আফসানার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, চিকিৎসা সম্ভব নয় চিকিৎসকদের এমন মন্তব্যে ঢাকার মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতাল থেকে মুমূর্ষু আফসানাকে (৯) নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে বাড়ি ফিরছিলেন তার স্বজনরা। কিন্তু যাত্রাপথে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় ওভারটেকিং নিয়ে ঝামালে শুরু হলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আফসানাদের বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সের চালক আরেকটি মাইক্রোবাসের চালকের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। মাইক্রোবাসের চালকের লোকজন অ্যাম্বুলেন্সের চাবিও কেড়ে নেয়। এর মধ্যে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা আফসানা তার বাবার কোলে মারা যায়।