আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে মামলার লিভ টু আপিল শুনানি ২৪ জুলাই

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের লিভ টু আপিল আবেদনের শুনানি আগামী ২৪ জুলাই করবেন সুপ্রিম কোর্ট। তার বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে এ আবেদন করা হয়েছিল।

আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এ তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

বিচারপতি মামলার বিচারকাজ স্থগিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, 'এই আদালতের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ লিভ টু আপিল আবেদনের ওপর শুনানি করবেন এবং পরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।'

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারায় শহিদুলের বিরুদ্ধে করা মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা একটি রিট আবেদন গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট খারিজ করে দেন।

২০১৮ সালের অক্টোবরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের পর আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা বিলুপ্ত হয়।

আজ শহিদুলের আইনজীবী সারা হোসেন লিভ টু আপিল আবেদনের শুনানির জন্য তারিখ নির্ধারণ করতে এবং মামলার বিচারকাজ স্থগিত করার জন্য আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন এ আবেদনের বিরোধিতা করেন।

শুনানিতে শহিদুল আলমের পক্ষে আইনজীবী মো. রমজান আলী সিকদার, এম আসাদুজ্জামান ও আবদুল্লাহ আল নোমান আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আদালত থেকে বেরিয়ে সারা হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'নিম্ন আদালত যদি শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে মামলার বিচারকাজ পরিচালনা করেন, তাহলে তা পক্ষপাতদুষ্ট হবে। কারণ এই মামলার বিরুদ্ধে আপিলের আবেদন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন আছে।'

কারণ উল্লেখ করে আইনজীবী বলেন, 'আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা বাতিলের আগে মামলার তদন্ত শেষ হয়নি বলে এ মামলা চলতে পারে না।'

তিনি বলেন, 'ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৬১ ধারা শহিদুলের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রমের অনুমতি দেয় না।'

তিনি জানান, ট্রায়াল কোর্টে মামলার শুনানির জন্য ১১ মে দিন নির্ধারিত আছে।

সারা হোসেন বলেন, 'শহিদুল আলমের করা রিট আবেদনটি হাইকোর্ট খারিজ করে দিয়েছেন। কারণ এতে তার সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় পদ্ধতিগত ত্রুটি আছে।'

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের পর ওই ধারাটি বিলুপ্ত হলেও অবৈধভাবে শহিদুলের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী।

২০১৮ সালের ৫ আগস্ট নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় দৃক গ্যালারি ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা শহীদুল আলমকে তার ধানমন্ডির বাসা থেকে তুলে নেওয়া হয়।

পরদিন পুলিশ তার বিরুদ্ধে মামলা করে এবং তাকে আদালতে হাজির করে।

আদালত তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে দেন।

আদালতে শহিদুল বলেন, 'তাকে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন করা হয়েছে।'

পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করে।

রিমান্ড শেষে শহিদুলের জামিন নামঞ্জুর করে ১৩ আগস্ট ঢাকার একটি আদালত তাকে কারাগারে পাঠান।

২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর হাইকোর্ট শহিদুলকে জামিন দেন। পরদিন তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।