আ. লীগ নেতার মানহানি মামলায় সাভারে সাংবাদিক গ্রেপ্তার, পুলিশের মারধরের অভিযোগ
সাভারের আশুলিয়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হালিম পালোয়ানের করা মানহানির মামলায় গ্রেপ্তার এক স্থানীয় সাংবাদিককে পুলিশ মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আজ রোববার ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিচারিক আদালত থেকে জামিনে মুক্তির পর সাংবাদিক মামুন মোল্লা দ্য ডেইলি স্টারকে অভিযোগ করে বলেন, 'একটি মিথ্যা মানহানির মামলায় গতকাল শনিবার বিকেল ৪টার দিকে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক ফরহাদ বিন করিম ও সহকারী-উপপরিদর্শক হারুনের নেতৃত্বে ৪ জন পুলিশ সদস্য আমার কাঠগড়া পশ্চিমপাড়ার বাসা থেকে আমাকে গ্রেপ্তার করে।'
'গ্রেপ্তারের সময় কী কারণে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে জানতে চাইলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের মধ্য থেকে একজ কন্সটেবল আমাকে পায়ের বুট দিয়ে লাথি মারে। এসময় আমার ১৪ বছর বয়সী ভাতিজা শিমুল কান্নাকাটি ও প্রতিবাদ করলে তাকেও বুট দিয়ে লাথি মারেন ওই পুলিশ সদস্য। আমাকে থানায় নেয়ার পথে গাড়িতে নির্মমভাবে মারধর করা হয়,' বলেন তিনি।
মামুনকে গ্রেপ্তারের সময় যে ২ জন পুলিশ কন্সটেবল উপস্থিত ছিলেন তাদের নামকি জানতে চাইলে ফরহাদ বিন করিম বলেন, '২ জন পুলিশ সদস্যেরই নামের ফলক না থাকায় আমি তাদের নাম বলেতে পারছি না। পুলিশের গাড়িতে মারধরের সময় গ্রেপ্তারের সময় নেতৃত্ব দেয়া পুলিশের উপপরিদর্শক ফরহাদ বিন করিম উপস্থিত না থাকলেও সহকারী উপপরিদর্শক হারুন গাড়িতে উপস্থিত ছিলেন।'
'কী কারণে মারধর করা হতে পারে' জানতে চাইলে মামুন মোল্লা বলেন, 'উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে মামলার বাদী পক্ষের নিকট থেকে উৎকোচ পেয়ে আমাকে মারধর করেছে পুলিশ। আমি এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করবো।'
এদিকে, 'মামুন মোল্লাকে মারধরের বিষয়টি ভিত্তিহীন' দাবি করে উপপরিদর্শক ফরহাদ বিন করিম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গ্রেপ্তারের সময় বা পরে আসামিকে কোনো প্রকার মারধর করা হয়নি। মারধরের অভিযোগটি ভিত্তিহীন।'
যোগাযোগ করা হলে আশুলিয়া থানার পরিদর্শক(তদন্ত) জিয়াউল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারের পর কোনো আসামিকে মারধরের বিষয়টি তার জানা নেই। এধরনের ঘটনা থানায় ঘটনার কোনো সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী ও আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হালিম পালোয়ান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমি একজন সাধারণ মানুষ। গরু লালন পালনের পাশাপাশি রাজনীতি করি। পারলে মানুষের উপকার করি। চাঁদাবাজি ও মানুষকে হয়রানির মধ্যে আমি নেই। আমার বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচার চালিয়ে আমাকে হয়রানি করেছে তাই আমি আদালতে মানহানির মামলা করেছি।'
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশুলিয়া থানার (ওসি) এস এম কামরুজ্জামান বলেন, 'মামুন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। তাকে গ্রেপ্তারের সময় বা গাড়িতে থানায় নিয়ে আসার সময় নির্যাতনের প্রশ্নই ওঠেনা।'
মামুনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতার মানহানি মামলা
সাভারের আশুলিয়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হালিম পালোয়ান গত ২০২১ সালের ১০ নভেম্বর ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিট্রেট আদালতে দ্য নিউজ স্টার ২৪ ডটকম ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে বিভিন্ন সময় মিথ্যা সংবাদ প্রচার করার অভিযোগ তুলে মামুন মোল্লার বিরুদ্ধে ৩ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেন। মামলাটি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আশুলিয়া থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
গত ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক ফরহাদ বিন করিম মামলার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ দাখিল করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
সম্প্রতি ওই মামলায় মামুনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। ওই মামলায় মামুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলাটি হয়রানীর জন্য দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মামুন মোল্লা।
দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, 'ওই আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। আমার বাড়ির রাস্তা নির্মাণের সময় তিনি চাঁদাদাবি করেন। তার বিরুদ্ধে আমি আদালতে একটি মামলা করি। এছাড়া এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে আমি বিভিন্ন সময় একটি অনলাইন পত্রিকায় নিউজ প্রকাশ করি। আমাকে হয়রানি করতে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। পুলিশ বাদির নিকট থেকে সুবিধা পেয়ে আমার বিরুদ্ধে মনগড়া প্রতিবেদন জমা দেয়। এছাড়া আদালত যে সমন জারি করেছে তার কোনো কপি আমাকে পাঠানো হয়নি।'
মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল কারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক ফরহাদ বিন করিম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, মামলার তদন্ত তিনি করেছেন কি না তা নথি না দেখে বলতে পারবেন না। তবে এধরনের মামলা প্রতিবেদন বাদীপক্ষ ও স্থানীয়দের সঙ্গে গোপনে কথা বলে দাখিল করা হয় বলে জানান তিনি।
'একজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের পর পুলিশি নির্য়াতন খুবই দুঃখজনক' উল্লেখ করে আশুলিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'মামুনকে মারধর করা হয়েছে শুনে আমি মামুনের সঙ্গে কথা বলি। ওর জন্য ব্যাথানাশক ওষুধ পাঠাই। গ্রেপ্তারের পর কোনো আসামিকেই পুলিশের মারধর করার অধিকার নাই। এটা খুবই দু:খজনক।'